ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারের নিয়ম, উপকারিতা এবং কেনার কৌশল

ময়েশ্চারাইজার আমাদের স্কিন কেয়ার এর একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ এবং বলা যায় এটি আমাদের স্কিন কেয়ার এর সবচেয়ে লাস্টের দিকের ধাপ। আমাদের ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখার জন্য মশ্চোরাইজার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি এমন একটি প্রোডাক্ট যা ত্বকের ওয়েল ব্যালেন্স করে, পাশাপাশি ত্বকের আদ্রতা বজায় রেখে ত্বক উজ্জ্বল ও মসৃণ করে তোলে।
দেখা গেছে কেউ অন্য কোন স্কিন কেয়ার প্রোডাক্ট ব্যবহার না করলেও ময়েশ্চারাইজার কম বেশি ব্যবহার করেই থাকেন।

যেহেতু এটি দিনে বা রাতে অনেকবারই আমরা আমাদের ত্বকে ব্যবহার করে থাকি তাই ময়েশ্চারাইজার কিনার সময় অবশ্যই ভালো ব্র্যান্ড, আপনার ত্বকের ধরণ, প্রোডাক্টটির উপাদান, ব্যবহারের নিয়ম সবকিছু বুঝেই ময়েশ্চারাইজার কেনা উচিত।

আজকের পোস্টে আমরা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারের নিয়ম, উপকারিতা এবং কেনার কৌশল সম্পর্কে আলোচনা করবো।

ময়েশ্চারাইজার কি?

ময়েশ্চারাইজার হলো এক ধরনের ক্রিম যা ত্বকের আদ্রতা বজায় রেখে ত্বককে মসৃণ করতে সাহায্য করে। সব ধরনের ত্বকের মানুষদের ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হয়।

অনেকের ধারণা যাদের তৈলাক্ত ত্বক তাদের ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করার প্রয়োজন নেই।আবার অনেকে ভাবেন শীতকাল ছাড়া বাকি অন্য ঋতুতে এটি ব্যবহার এর প্রয়োজন নেই। এই সবগুলো ধারণাই এক একটি ভুল। আপনি যে ত্বকের অধিকারীই হোন না কেনো আপনার অবশ্যই ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে।

ময়েশ্চারাইজার কেনার নিয়ম/ কৌশল

যেহেতু আমরা দিনের এবং রাতের বেশীর ভাগ সময়ই ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করে থাকি সুতরাং এটি কেনার সময় আমাদের অবশ্যই কিছু জিনিস এবং কিছু সর্তকতা অবলম্বন করে কিনতে হবে।

১. শুরুতেই আপনার জেনে নিতে হবে আপনার ত্বকের ধরণ কি। বাংলাদেশের আবহাওয়ায় আমাদের তিন ধরনের ত্বক সবচেয়ে বেশি পরিলক্ষিত হয়।শুষ্ক, তৈলাক্ত এবং কম্বিনেশন। যেহেতু আমাদের আবহাওয়ায় তিন ধরনের ত্বকের মানুষ খুঁজে পাওয়া যায় তাই ময়েশ্চারাইজার কেনার সময় অবশ্যই আপনাকে আপনার ত্বকের ধরন জেনেই ময়েশ্চারাইজার কিনতে হবে।

২. ময়েশ্চারাইজার কেনার সময় নামিদামি কিছু ব্র্যান্ড বা ভালো ব্র্যান্ড দেখে কিনবেন। অনেক সময় ভালো ব্র্যান্ডগুলোর অনেক নকল বের হয়, যা লোকাল দোকানে বিক্রি হয়ে থাকে। সেক্ষেত্রে লোকাল কোনো দোকান থেকে ময়েশ্চারাইজার না কিনে সেই ব্র্যান্ডের শোরুম থেকে কেনার চেষ্টা করবেন। বা সেই ব্র্যান্ডের লোগো হলমার্ক দেখে তবেই তা কিনবেন। সর্বোপরি যাচাই করা ছাড়া ময়েশ্চারাইজার কেনা উচিত নয়।

৩. আপনারা যদি আপনার ত্বকের ধরন নিয়ে বিভ্রান্তিতে থাকেন বা বুঝতে না পারেন যে আপনার ত্বকের ধরন কোনটি, সেক্ষেত্রে সেই ব্র্যান্ডের কোনো উপযুক্ত কর্মচারীর সাথে পরামর্শ করে আপনার ত্বকের ধরন জেনে নিবেন। অথবা কোনো ত্বকের চিকিৎসক বা কোনো অভিজ্ঞ ডার্মাটোলজিস্ট এর কাছ থেকে পরামর্শ নিতে পারেন।

৪. ময়েশ্চারাইজার কেনার পর তা ত্বকে সরাসরি ব্যবহার না করে আগে প্যাচ টেস্ট করে নিবেন।কোনো এলার্জি বা লালভাব দেখা দিলে এটি ব্যবহার করবেন না।

ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারের নিয়ম

ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারের দুটি সাধারণ সময় হল দিনের শুরুতে এবং রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে। এছাড়াও আমরা যখন দুপুরে গোসল করে থাকি এরপর আমাদের কোষ অনেক নরম হয়ে যায় সে ক্ষেত্রে সেই সময় শরীরে আদ্রতা বজায় রাখতে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে।

দিনেরবেলায় বেশিরভাগ সময়ে নানা কাজের পর আমাদের ত্বক তৈলাক্ত হয়ে যায় সে ক্ষেত্রে তা পরিষ্কার করে ধুয়ে আমাদের ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা উচিত। সকালে ঘুম থেকে উঠে ফেইসওয়াস দিয়ে মুখ ধুয়ে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করে তারপর সানস্ক্রিন ব্যবহার করা উচিত।

অন্যদিকে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে আবারো ত্বক ভালো করে ফেইসওয়াস বা আপনার পছন্দের যেকোনো ক্লিনজার দিয়ে ধুয়ে তা কিছুটা ড্রাই হলে ত্বকে টোনার সিরাম ব্যবহার করে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করে নিবেন।ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার এর আগে ত্বকে কোনো ওয়েল বা তেল ব্যবহার করবেন না। ওয়েলিং স্কিন কেয়ার এ ময়েশ্চারাইজার এর পরের ধাপ।

আরো পড়ুনঃ সানস্ক্রিন ক্রিম ব্যবহারের নিয়ম, উপকারিতা ও অপকারিতা, নাইট ক্রিম ব্যবহারের নিয়ম, উপকারিতা ও অপকারিতা

ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার এর সময় কৌটা থেকে নিয়ে তা ডট আকারে পুরো ত্বক এবং গলার এড়িয়াতে লাগাতে হবে। এরপর তা হাত দিয়ে আপওয়ার্ড মোশন অর্থাৎ ত্বকের সাথে অর্ধমুখী ভাবে তা মাসাজ করুন। ভুলেও ক্রিম মাখার সময় নিচের দিকে চামড়া টান দিবেন না। এতে করে চামড়া কম বয়সেই ঝুলে পড়ে।এবং ত্বকে বয়সের ছাপ পড়ে যায় কম বয়সেই।

আর একটা বিষয় হলো অনেকে ক্রিম হাতে নিয়ে অনেক জোরে জোরে গালে ঘসে থাকেন সেটিও ত্বকের জন্য ক্ষতিকর। এটি ত্বককে ড্রাই করে দিবে আর বয়সের চাপ বাড়িয়ে দিবে সেটা তো সাথে আছেই। তাই ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করার সময় গলা এবং ত্বকের চামড়া যেনো ঝুলে না পড়ে তাই নিয়ম মেনেই তা ব্যবহার করতে হবে।

পুরুষ এবং মহিলা উভয়ই ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা অনেক জরুরী। এটি ব্যবহার করার অনেক উপকারিতা রয়েছে।

ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করার উপকারিতা

  • নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করলে ত্বক অনেক মসৃণ হয়।
  • যেহেতু ময়েশ্চারাইজার একটি ক্রিম বেসড প্রোডাক্ট তাই এটি ব্যবহার এর সময় আলতো হাতে ম্যাসাজ করার প্রয়োজন হয়।এতে করে ত্বকে বলিরেখা পড়ে না।ত্বকের চামড়া ঝুলে পড়েনা।এবং সহজেই ত্বকে বয়সের ছাপ পড়ে না।
  • এটি ত্বকের আদ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে।
  • ত্বককে ভিতর থেকে উজ্জ্বল করে তোলে।

ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার সকল নারী পুরুষ এর জন্যই অপরিহার্য এবং যেকোনো ঋতুতেই ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা মাস্ট। তাই এর সঠিক নিয়ম জেনে,ভালো জায়গা থেকে কেনার কৌশল জেনে তবেই ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা শুরু করা উচিত।

5/5 - (17 Reviews)
Subna Islam
Subna Islam
Articles: 36

Leave a Reply

Your email address will not be published.