তুলসী গাছ

সৃষ্টির সূচনালগ্ন থেকে উদ্ভিদকূল নিঃস্বার্থ ভাবে মানবজাতির কল্যাণে অবদান রেখে যাচ্ছে। ছোটো গুল্ম কিংবা বিশাল বড় বৃক্ষ কোনোটি থেকেই প্রাপ্ত উপকারের পরিমাণ কম নয়। তেমনিই একটি উপকারী, পরিবেশবান্ধব গাছ হলো তুলসীগাছ। 

হাজারো গুণে গুণান্বিত এই চিরহরিৎ গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদটির সবচেয়ে বড় গুণ এটি একটি ঔষধি গাছ। 

স্মরণশক্তি বাড়ানোর জন্য বেশ উপকারী এই গাছটিকে নার্ভের টনিকও বলা হয়ে থাকে তুলসী গাছ । পাশাপাশি শ্বাসনালী থেকে শ্লেষ্মাঘটিত সমস্যা দূরীকরণে এর জুড়ি নেই। এরকম নানা রোগ নিরাময়ে তুলসী গাছের উপকারীতা অপরিসীম।

তুলসী গাছের উপকারীতা

১. সকালে খালি পেটে তুলসী পাতা চিবিয়ে খেলে মুখের রুচি বৃদ্ধি পায় 
২. জ্বর দ্রুত সারার ক্ষেত্রে তুলসী পাতার রস দারুণ এক নিয়ামক হিসেবে কাজ করে।
৩. সর্দিকাশি থেকে উপশম পেতে তুলসী পাতার রস এর সাথে সামান্য মধু মিশিয়ে খাওয়া বেশ কার্যকরী একটি পদক্ষেপ 
৪. নিয়মিত তুলসী পাতা গরম পানিতে সিদ্ধ করে সে পানি ব্যবহার করে গড়গড়া করলে মুখ এবং গলার জীবাণু মরে যায় এবং পাশাপাশি মুখের দুর্গন্ধও দূর হয়।
৫. তুলসী পাতায় সিডেটিভ এবং ডিসইনফেকটেন্ট প্রপাটিজ থাকে বলে মাথার যন্ত্রণা কমাতে এটি বেশ সহায়ক হয়।
৬. ব্রণের প্রকোপ কমাতে এ পাতায় উপস্থিত অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল এজেন্ট বেশ কার্যকরী। 
৭. তুলসী পাতা কেবল দৃষ্টিশক্তি বাড়ানোই নয় এর পাশাপাশি ছানি এবং গ্লুকোমার মতো চোখের রোগ থেকেও দূরে রাখতেও ভূমিকা পালন করে।
৮. তুলসীতে থাকা ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদানগুলো নার্ভকে শান্ত করে এবং মানসিক চাপ কমাতে দারুণ সহযোগিতা করে।
৯. তুলসী পাতার রস শরীরের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে।
১০. কোনো পোকামাকড় কামড় দিলে  সেই স্থানে তুলসী পাতার তাজা রস দিয়ে রাখলে জ্বলা কিংবা ব্যথা থেকে মুক্তি মেলে কারণ তুলসী পাতা একটি প্রোফাইল্যাক্টিভ।

তুলসী পাতার বৈশিষ্ট্য

তুলসী পাতার বৈশিষ্ট্য

তুলসী গাছ মূলত একটি চিরহরিৎ গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদ যার পাতাগুলো ২-৫ সেন্টিমিটার লম্বা হয়। গাছটির শাখা-প্রশাখার অগ্রভাগ থেকে ৫টি পুষ্পদণ্ড বের হয় এবং প্রত্যেকটি পুষ্পদণ্ডের চতুর্দিকে ছাতার ন্যায় আকৃতির ১০-২০ টি স্তরে
ফুল দেখা যায়। তুলসীপাতায় ক্যালসিয়াম, সোডিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, আয়রন, ফরফরাস, 
ভিটামিন ডি, কার্বোহাইড্রেট, পানি সহ আরো বিভিন্ন প্রয়োজনীয় উপাদান থাকে।

তুলসী বীজের উপকারিতা

তুলসী বীজে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ফ্ল্যাভোনয়েড থাকে যা আমাদের ত্বককে স্বাস্থ্যকর করার পাশাপাশি নতুন কোষ তৈরিতেও ব্যাপক সাহায্য করে। চুল বৃদ্ধিকরণে তুলসীর বীজে উপস্থিত আ্যন্টিঅক্সিডেন্ট বেশ সহায়ক। 
তেলে মিশ্রিত তুলসীর বীজ কয়েকদিন নিয়মিত ব্যবহারের মাধ্যমে  সোরিয়াসিস এবং একজিমার মতো ত্বকের রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। 
এছাড়া অনিয়মিত ঋতুস্রাব এবং যৌন সমস্যা sexual wellness নিরাময়ের তুলসীর বীজ সেবন বেশ কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।

কালো তুলসী পাতার উপকারিতা

তুলসী গাছ

বাংলাদেশে যে পাঁচ প্রজাতির তুলসীর   দেখা মেলে তন্মধ্যে কালো বা কৃষ্ণ তুলসী প্রধানতম। চারপাশের পরিবেশকে বিশুদ্ধ রাখতে এই তুলসী গাছটির জুড়ি নেই। হিন্দু ধর্মাবলম্বী দের পূজা অর্চনায় যেমন এর অবস্থান শক্তভাবে পাওয়া যায় তেমনি এর রয়েছে বেশকিছু ভেষজ গুণাবলীও। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে মূলত সালাদ হিসেবে অসংখ্য গুণে গুণান্বিত এই তুলসীপাতা খাওয়া হয়ে থাকে। কৃষ্ণ তুলসী বা তুলসীপাতাকে
কাজে লাগিয়ে কুইন্সল্যান্ডের তথাকথিত Bush tea প্রস্তুত করা হয়। ম্যালেরিয়া সারাতেও কৃষ্ণ তুলসীর কার্যকরী ব্যবহার দেখা যায়। মশার উপদ্রব কমানো এবং মশা বিতাড়ক হিসেবেও এটিও গণ্য হয়।  

তুলসী গাছের শিকড়ের উপকারিতা

১.অনেক মেয়ের দীর্ঘদিন যাবত পিরিয়ড হয়।কোনোস্থানে কেটে গেলে রক্তপাত হয়।সহজে বন্ধ হয়না।এক্ষেত্রে তুলসী গাছের শিকড় অনেক উপকারী।
ব্যবহার : তুলসী গাছের শিকড় চূর্ণ করে সাদা পান দিয়ে দিনে একবার  করে খেতে হবে।

২.গলিত কুষ্ঠ নিরাময়ে তুলসী গাছের শিকড় চূর্ণ ও শুঠ চূর্ণ মিলিয়ে এক চামচ পরিমাণ নিয়ে গরম জলে গুলে প্রতিদিন সকালে খেতে হবে।

৩.তুলসী গাছ এমন একটি গাছ যার পাতা শিকড় সবই কার্যকরী মানুষের কল্যাণে।

নির্বিচারে বৃক্ষনিধনে পুরো মানবজাতি যখন মত্ত তখন অন্যান্য উদ্ভিদের সাথে হুমকির মুখে রয়েছে ভেষজ উদ্ভিদও। তুলসীর মতো প্রকৃতিবান্ধব উপকারী উদ্ভিদও তাই অনেকটাই বিলুপ্তির মুখে। বিষয়টি দৃষ্টির সীমানায় আসলেও এখন পর্যন্ত নেয়া হয়নি কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ। নিজেদের তথা পুরো মানবজাতির উপকারের বিষয়টি বিবেচনা করে শত গুণে গুণান্বিত এই তুলসী গাছ রোপনে সোচ্চার হওয়ার মধ্যে দিয়ে পুনরায় পৃথিবীর সবুজ পরিবেশ ফিরিয়ে গড়ে উঠুক।

5/5 - (11 Reviews)

Leave a Reply

Your email address will not be published.