লাল শাকের উপকারিতা ও অপকারিতা

সুস্থ থাকতে চাইলে নিয়মিত শাক খাওয়ার বিকল্প নেই। কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে শুরু করে বিভিন্ন রোগ থেকে বাঁচতে শাক আমাদের সাহায্য করে থাকে। আমরা অনেক ধরনের শাক খেয়ে থাকি এর মধ্যে “লালশাক” একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।

আপনি যখন শীতকালে বাজারে যান, তাজা লাল শাক আপনার নজর কাড়ে। এই লাল শাকে সমস্ত কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, চর্বি রয়েছে। লাল শাক শরীরে রক্ত ​​চলাচল বাড়াতে সাহায্য করে। লাল শাক কিডনির সমস্যা থেকে শুরু করে দৃষ্টিশক্তি সব কিছুতেই ভূমিকা রাখে।

যারা ডায়েটে আছেন তাদের ডায়েটে অবশ্যই লাল শাক অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। লালশাক দেখতে লালচে – গোলাপী রংয়ের হয়ে থাকে। লালশাক সহজলভ্য একটি শাক। আমাদের দেশে সারা বছর প্রায় সব মৌসুমেই এই শাক পাওয়া য়ায়। এই শাক ৬”-১২” পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে।

লাল শাকের উপকারিতা

লালশাকে হিমোগ্লোবিনের মাএা অনেক বেশি। আমরা জানি হিমোগ্লোবিন রক্ত তৈরী করতে সাহায্য করে।এই শাকে সবচেয়ে বেশি রক্ত তৈরী হয়। বাড়ন্ত শিশু, গর্ভাবস্থায় ও যেকোনো জটিল অপারেশনের পরে দেহে রক্তের প্রয়োজনীয়তা বেড়ে যায়। তখন এই ধরনের খাবার বয়ে আনে সুফল। লালশাক এমনই একটি শাক, যা দেহে রক্তের মাত্রা বাড়ায়। বাড়ন্ত শিশুদের দেহের প্রায় প্রতিটি অঙ্গের বৃদ্ধি ও পুষ্টির জন্য আয়রন, আয়োডিনের চাহিদা বেড়ে যায়। লালশাকের হিমোগ্লোবিন সেই চাহিদা পূরণ করে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়ঃ প্রতিদিন লাল শাক খাওয়া শুরু করলে শরীরে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ভিটামিন সি-এর ঘাটতি দূর হবে। ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এতটাই শক্তিশালী হয়ে ওঠে যে ছোট-বড় কোনো রোগই ধারে কাছে আসতে পারে না।

ঠাণ্ডাজনিত জ্বরের চিকিৎসায়ঃ যারা ঠান্ডাজনিত জ্বরে ভুগছেন তারা এই ঘরোয়া উপায়ের সাহায্য নিতে পারেন। এক্ষেত্রে একটি প্যানে সমপরিমাণ পানি নিয়ে তাতে একমুঠো লাল শাক নিন। তারপর পানি ফুটানো শুরু করুন। যখন দেখবেন ফুটন্ত পানির পরিমাণ অর্ধেকে নেমে এসেছে, তখন আঁচ বন্ধ করে দিন। তারপর পানি ঠাণ্ডা হলে তা ছেঁকে পান করুন। এভাবে কয়েকদিন করলেই দেখবেন জ্বর চলে যাবে।

উন্নত দৃষ্টিশক্তিঃ লাল শাকের ভিটামিন সি রেটিনার ক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সার্বিক দৃষ্টিশক্তির উন্নতিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। তাই যাদের দৃষ্টি খারাপ বা গ্লুকোমার মতো রোগের পারিবারিক ইতিহাস রয়েছে তারা সময় নষ্ট না করে আজ থেকেই লাল শাক খাওয়া শুরু করুন। কয়েকদিনের মধ্যেই সুফল দেখতে শুরু করবেন। লালশাকে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-এ পাওয়া যায়। এটি নিয়মিত খেলে দৃষ্টিশক্তি ভালো থাকে এবং অন্ধত্ব ও রাতকানা রোগ প্রতিরোধ করা যায়।

হাড় মজবুত করেঃ লাল শাকে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন কে রয়েছে, যা হাড়ের স্বাস্থ্যের উন্নতিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। এবং একবার হাড় শক্ত হয়ে গেলে, এটা বলা নিরাপদ যে হাড়ের রোগ, যেমন অস্টিওপোরোসিস, আর চিকিৎসা করা যায় না।

হার্ট ভালো রাখেঃ লাল শাক-সবজিতে থাকা ‘ফাইটোস্টেরল’ নামক একটি উপাদান শরীরে প্রবেশ করলে একদিকে যেমন রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে, তেমনি হৃদরোগের বিভিন্ন রোগের প্রতিষেধক হিসেবেও কাজ করে। সপ্তাহে অন্তত ২-৩ দিন লাল শাক খাওয়া হলে হার্টের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

রক্তস্বল্পতা দূরঃ করে লাল শাকে এমন কিছু উপাদান রয়েছে যা শরীরে লোহিত রক্ত ​​কণিকার মাত্রা বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। রক্তশূন্যতা রোগীরা এই সবজি খেতে পারেন। লাল শাকের দুই গুচ্ছ গুঁড়ো করে রস বের করে তাতে ১ চা চামচ লেবুর রস ও ১ চা চামচ মধু মিশিয়ে নিয়মিত খেতে পারেন, তাহলে শরীরে কখনও রক্তশূন্যতা হবে না।

হজমশক্তির উন্নতি ঘটায়ঃ লাল শাক ফাইবার সমৃদ্ধ, যা হজমের অ্যাসিডের নিঃসরণ বাড়ায়। একই সময়ে, তিনি মলত্যাগের যত্ন নেন যাতে এটি এমন হয়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই বদহজমের আশঙ্কা কমে। সেই সঙ্গে ঈর্ষার প্রবণতাও কমে।

ক্যান্সার প্রতিরোধেঃ লালশাকে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে যা ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে।

হৃদরোগেঃ নিয়মিত লালশাক খেলে রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের মাএা কমে যায় ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে।

লালশাকে থাকা বিটা-ক্যারোটিন হার্টস্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমায়। লালশাক নিয়মিত খেলে মস্তিষ্ক ও হৃদপিণ্ড শক্তিশালী হয়। দাঁত এবং অস্থির গঠনে ভূমিকা পালন করে থাকে বলে শিশুদের নিয়মিত লালশাক খাওয়ানো উচিৎ। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য লালশাক উপকারী কারণ এতে ক্যালোরির পরিমাণ কম থাকে। লালশাকে থাকা ফাইবার আমাদের পরিপাকে সাহায্য করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। এইশাকে রয়েছে “ভিটামিন সি” যা স্কার্ভি রোগ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। শরীরে অতিরিক্ত ক্যালসিয়াম জমে গিয়ে যে সব অসুখ হয় তা প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে লালশাক।

লাল শাকের অপকারিতা

শাকে প্রচুর পরিমাণে আয়রন থাকে, অতিরিক্ত আয়রন রাতের জন্য ভালো না এতে ঘুমের সমস্যা হতে পারে।

হার্টের সমস্যা বা লিভারের সমস্যা যাদের আয়রনের মাএা বেশি থাকায় এই রোগীদের রাতে শাক না খাওয়াই ভালো।

শাকে প্রচুর ফাইবার থাকে। ফাইবার শরীরের জন্য অতি প্রয়োজনীয় কিন্তু রাতে না খাওয়াই ভালো কারণ, ইনটেসটাইম অর্থাৎ খাবার হজমকারী জরুরী নালিবিশিষ্ট অঙ্গ অধিক রাতে কাজ করে না।

গর্ভাবস্থায় লালশাক খুবই উপকারী কিন্তু সবাই তা হজম করতে পারে না। শুরু থেকেই যারা অ্যাসিডিটি বা বমির সম্যায় বেশি ভোগেন, তারা অতিরিক্ত তৈলাক্ত খাবার, শাক, ফাস্ট ফুড জাতীয় খাবার বাদ দেবেন।

পুষ্টিমূল্য বিচারে শিশু থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত সবার জন্যই লালশাক উপকারী ।তাই আমাদের ভালো এবং সুস্থ থাকার জন্য নিয়মিত লালশাক খেতে হবে।

আরো পড়ুনঃ

5/5 - (22 Reviews)

2 Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.