সুস্বাস্থ্যে লেবুর উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ

লেবু সকল পরিবারেরই একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ফল। লেবুর স্বাদ পছন্দ করেন না এবং এর গুণাগুণ সম্পর্কে অবগত নন এমন মানুষ কমই থাকবেন। লেবু একটি টকজাতীয় ফল। লেবুর স্বাদ, গন্ধ এবং গন্ধ অনেক আলাদা এবং তাই এটি খাবারের স্বাদ বাড়াতে ব্যবহার করা হয়। খাবার ছাড়াও, লেবু আয়ুর্বেদ এবং ঐতিহ্যগত চিকিৎসায় অনেক উপায়ে ব্যবহৃত হয়।

বর্তমান সময়ে মহামরি কোভিড-১৯ রুখতে বিশেষজ্ঞগণ প্রতিদিন লেবু খেতে পরামর্শ দেন। এছাড়াও, রক্তে কোলেস্টেরল কমানো এমনকি রক্তস্বল্পতা কমাতেও লেবু অপরিহার্য ভুমিকা পালন করে। ওজন কমানোর জন্য লেবুর রস পান করা হয় এবং এর ডিটক্সিফাইং উপকারিতাও রয়েছে। লেবু হল সাইট্রাস পরিবারের ভিটামিন সি -এর অন্যতম সেরা উৎস, যা অ্যান্টি-এজিং এবং ইমিউনিটি-বুস্টিং বৈশিষ্ট্যও প্রদান করে।

লেবু গাছ একটি চিরসবুজ যা 6 মিটার উচ্চতা পর্যন্ত বাড়তে পারে। লেবুর ডালে কাঁটা থাকে। নতুন লেবুর পাতা লাল রঙের হয় যা বড় হওয়ার সাথে সাথে একদিকে গাঢ় সবুজ এবং অন্যদিকে হালকা সবুজ হয়। লেবুর ফুল সাদা রঙের হয় এবং তাদের গন্ধ খুব শক্তিশালী। লেবু গাছের ডালে এককভাবে বা গুচ্ছে ফুল ফোটে। লেবুর রস শরবত, কোমলপানীয় এবং ককটেল তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

লেবু আসলে ম্যান্ডারিন এবং সাইট্রনের মতো বন্য সাইট্রাস প্রজাতি থেকে উদ্ভূত। 1943 সালে, ক্রিস্টোফার কলম্বাস তার সমুদ্রযাত্রার সময় লেবুর বীজ বহন করেছিলেন এবং সেই সময়ে লেবু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে স্বীকৃত হয়েছিল। এই পোস্টে লেবুর উপকারিতা, লেবুর পুষ্টিগুণ, লেবুর শরবতের গুণাগুণ, লেবুর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে ।

লেবুর শীতল প্রভাব রয়েছে। গ্রীষ্মকালে এটি খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। গ্রীষ্মকালে এটি শরীরকে ঠান্ডা রাখে। শীতকালে লেবু খুব একটা ব্যবহার করা হয় না, এর অতিরিক্ত সেবনেও শরীরে যেকোনো ধরনের সমস্যা হতে পারে।

লেবুর পুষ্টিগুণ

পুষ্টিগুণপ্রতি ১০০ গ্রাম
এনার্জি ২৯ ক্যালরি
প্রোটিন১.১ গ্রাম
কার্বোহাইড্রেট২.৫ গ্রাম
ফ্যাট০.৩ গ্রাম
থায়ামিন০.০৪ মিলিগ্রাম
ভিটামিন সি৫৩ মিলিগ্রাম
ক্যালসিয়াম২৬ মিলিগ্রাম
আয়রন০.৬ মিলিগ্রাম
ম্যাগনেসিয়াম৮ মিলিগ্রাম
পটাশিয়াম১৩৮ মিলিগ্রাম
ফসফরাস১৬ মিলিগ্রাম

এছাড়াও জিংক, ম্যাংগানিজ,ভিটামিন-বি৬ রয়েছে। প্রতি ১০০ গ্রাম লেবু একজন সুস্থ স্বাভাবিক মানুষের দৈনিক চাহিদার ৬৪% সরবরাহ করে থাকে।

লেবুর শরবতঃ

১.লেবুর শরবত শরীর ঠান্ডা ও আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে।
২. লেবুর রসে জাম্বুরার রসের প্রায় দ্বিগুণ এবং কমলার রসের প্রায় পাঁচগুন বেশি সাইট্রিক এসিড থাকে।
৩.পেঁটফাপা কমানো ও পেটের অসুখ দূর করে লেবুর শরবত।
৪.যকৃতে চর্বি ও ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স কমায় লেবুর শরবত।
৫.প্রস্রাব ও মল পরিষ্কার রাখে।

লেবুর উপকারিতা

ক্যান্সার প্রতিরোধেঃ লেবুতে রয়েছে ভিটামিন-সি যা ক্যান্সারের ক্ষতিকর কোষ ধ্বংস করে, ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে।

ফুসফুসের জন্যঃ শরীর থেকে বিষাক্ত ও দূষিত দ্রব্য দূর করে লেবু। ফুসফুসকে সচল ও সবল রাখতেও সাহায্য করে।

ওজন কমাতে সাহায্য করেঃ লেবুতে রয়েছে পেকটিন,খাদ্য আঁশ যা ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ করে। এর ফলে ওজন কমে।

See also  কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার তালিকা, এর প্রয়োজনীয়তা, উৎস, উপকারিতা, অপকারিতা

অ্যানিমায় প্রতিরোধ করেঃ দৈনন্দিন খাবারে যে লোহা ও আয়রন থাকে তা শোষনের জন্য ভিটামিন-সির প্রয়োজন হয়। তাই খাবারের সঙে লেবু খেলে রক্তশূন্যতা বা অ্যানিমিয়া প্রতিরোধে সহায়ক হয়।

পাকস্থলী সুস্থ রাখতেঃ ডায়রিয়া,বদহজম,কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে লেবু। লেবুর সঙে এক চামচ মধু মিশিয়ে খেলে পাকস্থলীর বিভিন্ন রোগ থেকে মুক্ত থাকা যায়।

হাইপারটেনশনে কমায়ঃ লেবুতে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে পটাশিয়াম যা হাইপারটেনশন কমিয়ে মনকে প্রফুল্ল ও সতেজ রাখে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করেঃ লেবুতে রয়েছে অধিক পরিমানে ভিটামিন-সি। যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে যেকোন ভাইরাস জনিত ইনফেকশন যেমন ঠান্ডা, সর্দি,জ্বর দমন করে।এছাড়াও,শরীরের বিভিন্ন স্থানের ক্ষত সারতে সাহায্য করে ভিটামিন-সি।

ত্বকের যত্নেঃ লেবু কে বলা হয় প্রাকৃতিক পরিষ্কারক। ত্বকের লাবন্য ধরে রাখতে ও ত্বককে মসৃণ ও কোমল রাখতে সাহায্য করে লেবু। লেবুর রস একটি প্রাকৃতিক অ্যান্টিসেপটিক ওষুধ হওয়ায় ত্বক সংক্রান্ত সমস্যাও নিরাময় করতে পারে । লেবুর রস বার্ধক্য প্রতিরোধে সাহায্য করে এবং বলিরেখা ও ব্ল্যাকহেডস দূর করে। লেবুর রস পানি ও মধুর সাথে মিশিয়ে খেলে ত্বকে স্বাস্থ্যকর উজ্জ্বলতা আসে। লেবুতে থাকা সাইট্রিক অ্যাসিড প্রাকৃতিক ব্লিচিং এজেন্ট হিসেবে কাজ করে এবং আপনার ত্বককে করে তোলে হালকা ও উজ্জ্বল।

মুখের দুর্গন্ধ দূর করতেঃ মাড়ির ব্যথা,দাঁতের সমস্যা, মুখের দূর্গন্ধ দূর করে লেবুর পানি।

নখকে সুন্দর রাখেঃ লেবুর একটা স্লাইস দিয়ে নখ পলিশ করলে নখ তার বিবর্ণতা থেকে উজ্জ্বল রঙ ফিরে পায়।

বয়সের ছাপ দূর করেঃ বয়সের ছাপ প্রকাশ পায় বলিরেখার মাধ্যমে। লেবুর রস এই বলিরেখা দূর করে বয়সের ছাপ দূর করে ত্বককে করে মসৃণ ও উজ্জ্বল।

php মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করেঃ লেবুতে সাইট্রিক এসিড থাকলেও এটি শরীরের এসিডিটি তৈরি করেনা। এটি শরীরের php মাত্রা ঠিক রাখে।

গর্ভবতী নারীদের সুস্থতায়ঃ লেবুতে থাকা ভিটামিন সি ও পটাশিয়াম গর্ভের শিশুর হাড়,মস্তিষ্ক ও দেহের গঠনে সহয়তা করে, লেবু গর্ভবতীর শরীরের বিভিন্ন পুষ্টিগুণও সরবারহ করে থাকে।

শ্বাসকষ্ট নিরাময়েঃ যারা শ্বাসকষ্টে ভুগেন তাদের জন্যে লেবুর রস খুবই উপকারি।লেবুর রস এজমার মত জটিল সমস্যার জন্যেও উপকারি।

ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য রক্ষায়ঃ খেলাধুলার পর লেবুর শরবত খেলে শরীরে ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য রক্ষা হয়।

বদহজমঃ লেবুর রস বদহজম ও কোষ্ঠকাঠিন্য নিরাময়ে সাহায্য করে । আপনি আপনার খাবারে কয়েক ফোঁটা লেবু যোগ করতে পারেন যা আপনাকে হজমে সাহায্য করতে পারে। এটি রক্ত ​​পরিশোধক হিসাবেও কাজ করে, তাই লেবু থেকে একটি সুন্দর তাজা পানীয় তৈরি করুন এবং দুপুরের খাবার বা রাতের খাবারের পরে পান করুন। অনেক জায়গায় একে তাজা লেবু সোডাও বলা হয়। এই পানীয়টি তৈরি করতে আপনার লেবুর রস, ঠান্ডা জল, সোডা, লবণ এবং চিনি বা মিষ্টির জন্য মধু লাগবে। স্বাদের জন্য কিছু পুদিনা পাতাও যোগ করতে পারেন।

See also  সেরা ইফতার রেসিপি সমূহ

জ্বরের জন্য লেবুঃ ঠাণ্ডা, ফ্লু বা জ্বরে আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসায়ও লেবু সাহায্য করে। কারণ এটি শরীরে ঘাম বাড়িয়ে জ্বর ভাঙে। লেবু অ্যান্টিবডি এবং শ্বেত রক্তকণিকা উৎপাদনে সাহায্য করে যা শরীরে অণুজীবের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে। জ্বরের সময় লেবু ব্যবহার করলে শরীরে ডায়াফোরসিসের পরিমাণ বেড়ে যায়, যার কারণে জ্বর কমে যায়। রক্ত পরিশোধক হওয়ায় এটি ম্যালেরিয়া এবং কলেরার মতো রোগের চিকিৎসায়ও সাহায্য করতে পারে।

দাঁতের জন্যঃ লেবু অনেক সময় দাঁতের যত্নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।তাজা লেবুর রস যদি দাঁতের অংশে লাগানো হয় তবে তা ব্যথা উপশম করতে সাহায্য করে। মাড়িতে রস মালিশ করা রক্তপাত কমাতে পারে, মাড়ির অনেক রোগ এবং তাদের কারণে দুর্গন্ধ দূর করে। লেবু যেমন সাদা দাঁত পেতে ব্যবহার করা যায়, তেমনি নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধ রোধেও ব্যবহার করা যেতে পারে । আপনি আপনার টুথপেস্টে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস যোগ করে এটি ব্যবহার করতে পারেন।

চুলের জন্যঃ চুলের যত্নে লেবুর রস ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। খুশকি , চুল পড়া এবং চুল এবং মাথার ত্বকের সমস্যাগুলির চিকিত্সা করতে পারে। আপনি যদি সরাসরি চুলে লেবুর রস লাগান তবে এটি আপনার চুলকে একটি প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা দিতে পারে।

খুশকির জন্যঃ লেবু খুশকি দূর করার একটি প্রাকৃতিক প্রতিকার। চুলের গোড়ায় লেবুর রস ব্যবহার করলে খুশকি দূর হয়।

তৈলাক্ত চুলঃ চুলের গোড়ায় লেবুর রস ও ভিনেগারের মিশ্রণ লাগালে খুশকি কমে যায় এবং একই সঙ্গে আপনার চুলকে অতিরিক্ত তৈলাক্ত হওয়া থেকেও রক্ষা করে।

উকুন দূর করতেঃ চুলের উকুন দূর করতে রসুন বা বাদাম পেস্টের সঙ্গে লেবুর রস মিশিয়ে চুলের গোড়ায় লাগান, এটি উকুন দূর করার একটি প্রাকৃতিক উপায়।

পোড়া দাগ কমাতেঃ লেবুতে রয়েছে সাইট্রিক অ্যাসিড যা প্রাকৃতিকভাবে পোড়া দাগ দূর করতে সাহায্য করে। পোড়া দাগ কমাতে লেবুর রস লাগিয়ে ২ মিনিট ম্যাসাজ করুন। এই প্রক্রিয়াটি নিয়মিত করুন। তবে নিশ্চিত করুন যে আপনি পোড়া নিরাময়ের পরেই লেবুর রস ব্যবহার করবেন। দীর্ঘস্থায়ী পোড়াতে লেবুর রস ব্যবহার করলে দাগ ম্লান হতে পারে এবং যেহেতু লেবু একটি শীতল এজেন্ট তাই এটি আপনার ত্বকে জ্বালাপোড়া কমায়।

অভ্যন্তরীণ রক্তপাত বন্ধ করার জন্যঃ লেবুর অ্যান্টিসেপটিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে, তাই এটি অভ্যন্তরীণ রক্তপাত বন্ধ করতে পারে। আপনি একটি তুলোর বলে কিছু লেবুর রস নিতে পারেন এবং নাক দিয়ে রক্ত ​​পড়া বন্ধ করতে নাকের ছিদ্রের ভিতরে রাখতে পারেন।

শ্বাসযন্ত্রের রোগের জন্যঃ লেবুর রস শ্বাসকষ্ট এবং শ্বাসকষ্টের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে সহায়তা করে, যেমন হাঁপানির আক্রমণে আক্রান্ত ব্যক্তিকে শান্ত করার ক্ষমতা । ভিটামিন সি এর একটি সমৃদ্ধ উৎস হওয়ায় এটি দীর্ঘমেয়াদী শ্বাসযন্ত্রের ব্যাধি মোকাবেলায় সহায়তা করে। কলেরা এবং ম্যালেরিয়ার মতো রোগগুলি লেবুর রস দিয়ে চিকিত্সা করা যেতে পারে, কারণ এটি রক্ত ​​বিশুদ্ধকারী হিসাবে কাজ করে।

See also  দুধের পুষ্টি উপাদান কি কি

পায়ের ব্যথা উপশমের জন্যঃ লেবু একটি সুগন্ধযুক্ত এবং অ্যান্টিসেপটিক এজেন্ট এবং পা শিথিল করার জন্য দরকারী। গরম পানিতে কিছু লেবুর রস মিশিয়ে এই মিশ্রণে আপনার পা ডুবিয়ে তাৎক্ষণিক উপশম এবং পেশী শিথিল করুন।

বাতের চিকিৎসায় লেবুঃ এটি একটি মূত্রবর্ধক এবং আর্থ্রাইটিসের চিকিৎসা করতে পারে। এটি শরীর থেকে ব্যাকটেরিয়া এবং টক্সিন দূর করতে সাহায্য করে।

গলার সংক্রমণ প্রতিরোধেঃ এর অ্যান্টিবায়োটিক বৈশিষ্ট্যের কারণে, লেবু একটি চমৎকার ফল যা গলার সংক্রমণজনিত সমস্যার বিরুদ্ধে লড়াই করে।

উচ্চ রক্তচাপের জন্যঃ লেবুর রস পান করা হার্টের সমস্যায় ভুগছেন এমন লোকদের জন্য সহায়ক, কারণ এতে পটাসিয়াম রয়েছে। এটি উচ্চ রক্তচাপ , মাথা ঘোরা এবং বমি বমি ভাব নিয়ন্ত্রণ করে, কারণ এটি মন এবং শরীর উভয়ের জন্য একটি শান্ত সংবেদন প্রদান করে। এটি সাধারণত মানসিক চাপ এবং বিষণ্নতা কমাতে কাজ করে ।

লেবু ও মধুর উপকারিতাঃ জার্নাল অফ ক্লিনিক্যাল বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড নিউট্রিশন-এ প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে লেবুতে পলিফেনল অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের পরিমাণ বেশি এবং ইঁদুরের ওজন হ্রাস লক্ষ্য করা গেছে যা উচ্চ চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়ায়।যার দ্বারা প্রমাণিত হয় যে লেবুর ব্যবহার ওজন কমায়। যদি কেউ লেবুর রস গরম পানি এবং মধুর সাথে পান করেন তবে এটি শরীরের ওজন কমাতে সাহায্য করতে পারে।

লেবুর অপকারিতা

লেবুতে রয়েছে সাইট্রাস অ্যাসিড, যা দাঁতের সঙ্গে অতিরিক্ত যোগাযোগের কারণে দাঁতকে সংবেদনশীল করে তোলে।

অতিরিক্ত লেবুর শরবত পানের ফলে পেটে ব্যথা অনুভূত হতে পারে, এছাড়াও লেবুর শরবত বেশি পান করলে শরীর দূর্বল বোধ হয়।

আপনার যদি অ্যাসিডিটির সমস্যা থাকে তবে একবারে লেবু খাওয়া বন্ধ করুন কারণ এতে অ্যাসিড রয়েছে। এতে পেট ফাঁপাসহ নানা ধরনের সমস্যা ও অস্বস্তি অনুভূত হতে পারে।

লেবুতে কারো কারো এলার্জি থাকতে পারে, তাই সে বিষয়ে জেনে লেবু খাওয়া উচিৎ। এছাড়া এটি হাঁপানির উপসর্গও বাড়িয়ে দিতে পারে।

বারবার লেবুর রস এবং দাঁতের সংস্পর্শে দাঁতের উপরের পৃষ্ঠের ক্ষতি করে। এ থেকে বাঁচতে লেবুর রস পানিতে মিশিয়ে পান করুন।

অতিরিক্ত লেবু পানি পান করলে অম্বল হয়।

লেবু খেলে অনেকের বুকে জ্বালা করে, এসিডিটি বৃদ্ধির কারণে এমনটা হয়।

ওজন কমানোর জন্যে খাদ্যাভ্যাসে লাগাম টানলে শরীরে কার্বোহাইড্রেট ও অন্যান্য পুষ্টিগুণের অভাব দেখা দেয়, এ অবস্থায় লেবুপানি বেশি পান করলে শরীর দূর্বল হতে পারে ও সহজেই ক্লান্তিবোধ আসতে পারে। তাই নিয়মিত কিন্তু পরিমাণমতো লেবু খান সুস্থ থাকুন। নিরাপদে থাকুন।

লেবু খাওয়ার নিয়ম

সকালের নাস্তায় লেবু ব্যবহার করুন এবং একটি সুস্বাদু খাবার দিয়ে দিন শুরু করুন।

যেকোনো ধরনের স্যুপে লেবু যোগ করা যেতে পারে, এতে স্যুপের স্বাদ আরও ভালো হবে।

কেউ কেউ সবজিতে লেবুও যোগ করেন।

কেক তৈরিতেও লেবু ব্যবহার করা যায়।

ককটেল বা মকটেলে লেবু ব্যবহার করতে পারেন।

লেবু এবং জলের মিশ্রণ লেবুর আকারে পান করা হয় এবং এটি খুব পছন্দও হয়।

5/5 - (13 Reviews)
foodrfitness
foodrfitness
Articles: 234

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *