অ্যাভোকাডোর উপকারিতা

অ্যাভোক্যাডো একটি বিদেশি ফল।আমাদের দেশের বিভিন্ন জায়গায় প্রচুর পরিমানে পাওয়া যাচ্ছে অ্যাভোক্যাডো।যে কোনো স্বাস্থ্যসচেতন মানুষই ফ্যাটের নামে ভুরু কোঁচকান এবং তার ফল স্বরূপ লো-কার্ব ডায়েটের দিকে ঝোঁকেন। এক্ষেত্রে মানুষ সবচেয়ে বেশি যার ওপর ভরসা করেন, তা হল ফল। কিন্তু অনেকেই জানেন না যে, বেশিরভাগ ফলেই উচ্চমাত্রায় কার্বোহাইড্রেট থাকে। আর কিছু ফলে থাকে হেলদি ফ্যাট। এরকমই একটি ফল হল অ্যাভোকাডো। আপনাদের জানিয়ে রাখি, অ্যাভোকাডোতে স্বাস্থ্যকর অর্থাৎ হেলদি ফ্যাটের পরিমাণই বেশি। তাই, বর্তমানে স্বাস্থ্যসচেতন মানুষদের মধ্যে অ্যাভোকাডো খাবার প্রবণতা অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। এই ফলে রয়েছে আরও নানারকম স্বাস্থ্যগুণ, যার অনেকটাই সবার জানা।

★★পুষ্টিগুণঃ

আ্যাভোকাডোতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ প্রোটিন,খনিজ পদার্থ, ভিটামিন এ,সি,ই এবং কে।আরো রয়েছে পটাশিয়াম, অ্যামাইনো এসিড, স্যাচুরেটেড ফ্যাট,ভালো কোলেস্টেরল। 

অ্যাভোকাডোর উপকারিতা

★★অ্যাভোকাডোর উপকারিতাঃ

** অ্যাভোক্যাডোতে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন বি৬ এবং ফলিক অ্যাসিড থাকে। যা আমাদের হৃদপিন্ডকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। এই ফল খেলে হৃদরোগের সম্ভাবনা কমে যায়।

**বিটা সাইটোস্টেরলের পরিমান অ্যাভোক্যাডোতে প্রচুর পরিমানে থাকায়, তা আমাদের শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রাকে বাড়তে দেয় না।

**চোখের জন্য অ্যাভোক্যাডো খুবই উপকারী। এতে ক্যারোটেনয়েড লুটেনের পরিমান খুব বেশি থাকায় তা আমাদের বয়সজনিত চোখের সমস্যা থেকে চোখকে রক্ষা করে।

**অ্যাভোক্যাডো খেলে আমাদের স্ট্রোকের সম্ভাবনা কমে যায়। প্রত্যেকদিনের ডায়েটে অ্যাভোক্যাডো থাকলে স্ট্রোক হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কম থাকে।

**অ্যাভোক্যাডো শুধুমাত্র চোখ কিংবা হৃদপিন্ডের জন্যই শুধু যে ভালো তা নয়। এটা আমাদের ত্বকের জন্যেও খুবই উপকারী। ত্বককে ভালো রাখতে সাহায্য করে।

**অ্যাভোক্যাডোতে প্রচুর পরিমানে ফাইবার থাকে যা ওজন কমাতে  সাহায্য করে।

**রক্তে শকর্রার স্পাইকগুলি হ্রাস করে এবং ফলে অনেক রোগের ঝুঁকি কমে যায়।

**অ্যাভোক্যাডোতে শক্তিশালী এন্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে যা চোখকে সুরক্ষিত রাখে।

**ক্যান্সার চিকিৎসা এবং প্রতিরোধে এই ফলটি খুবই উপকারী। 

**অ্যাভোক্যাডো এক্সট্র্যাক্ট বাতরোগ খেকে মুক্তিতে সহায়তা করে থাকে। 

**হজমে সহায়তা করে প্রতিদিনের খাবার তালিকায় অ্যাভোক্যাডো রাখলে আপনার খাবার সহজেই হজম হবে।

**অ্যাভোক্যাডোতে যে ম্যাগনেসিয়াম থাকে তা শরীরের ক্লান্তি দূর করে এবং ভালো ঘুম হতে সাহায্য করে থাকে। 

**চুল ও ত্বকের যত্নে অ্যাভোক্যাডো খুবই ভালো।এতে রয়েছে পেন্টাথেনিক এসিড যা চুল ও ত্বকের যত্নের প্রসাধনীতে থাকে।যা ময়েশ্চারাইজ করতে সহায়তা করে।

সম্প্রতি এশিয়াতে পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে যে সাধারণ ব্যাকটিরিয়া এবং অন্যান্য জীবাণু দ্বারা সৃষ্ট অনেকগুলি রোগ রোধে অ্যাভোকাডোস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সমীক্ষায় এই তথ্যটি নিশ্চিত করা হয়েছিল যে অ্যাভোকাডোসে বিভিন্ন অ্যান্টিব্যাকটিরিয়াল বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা শরীরকে অসংখ্য জীবাণু এবং ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়াগুলির বিরুদ্ধে লড়াই করতে সহায়তা করে।

অ্যাভোকাডোর পুষ্টিগুণ ফলটিকে একজনের ডায়েটে একটি দুর্দান্ত সংযোজন করে তোলে তা প্রায় প্রত্যেকেই একমত হবেন। একসময় তাদের চর্বিযুক্ত সামগ্রীর কারণে অস্বাস্থ্যকর বলে মনে করা হত, অ্যাভোকাডোসকে এখনকার পণ্য বাজারে পাওয়া যায় এমন একটি পুষ্টিকর ফল হিসাবে বিবেচনা করা হয়। যদিও উপরে বর্ণিত কিছু ভিটামিন এবং খনিজগুলি অন্যান্য ধরণের ফলের মধ্যে পাওয়া যায়, তবে কয়েকটি খাবার উচ্চ পুষ্টির মান এবং অ্যাভোকাডোর সমস্ত স্বাস্থ্য উপকার নিয়ে গর্ব করতে পারে।

5/5 - (11 Reviews)

One comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.