কাঁচা আমের আইসক্রিম রেসিপি: টক-মিষ্টি স্বাদের আইসক্রিম তৈরির সহজ উপায়

গ্রীষ্মকালের গরমে ঠান্ডা কিছু খাওয়ার ইচ্ছে আমাদের সবারই থাকে। সেই সময়ে কাঁচা আমের আইসক্রিম একটি দারুণ উপভোগ্য মিষ্টি যা সবার মন ভালো করে দিতে পারে। কাঁচা আমের টক-মিষ্টি স্বাদ আইসক্রিমে এক বিশেষ ফ্লেভার যোগ করে যা অন্য কোনো ফলের আইসক্রিমে পাওয়া যায় না। এই ব্লগে আমরা সহজ এবং সুস্বাদু কাঁচা আমের আইসক্রিম রেসেপি শেয়ার করব। 

উপকরণ

কাঁচা আমের আইসক্রিম তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণগুলো হলো:

  1. কাঁচা আম: ৩-৪ টি, খোসা ছাড়ানো এবং টুকরো করা

কাঁচা আম: ৩-৪ টি, খোসা ছাড়ানো এবং টুকরো করা
Image Credit- Aaj Tak Bangla
  1. চিনি: ১ কাপ (স্বাদ অনুযায়ী কম বা বেশি করা যেতে পারে)

 চিনি: ১ কাপ (স্বাদ অনুযায়ী কম বা বেশি করা যেতে পারে)

  1. পূর্ণচর্বিযুক্ত দুধ: ২ কাপ

পূর্ণচর্বিযুক্ত দুধ: ২ কাপ
Image Credit- Jugantor
  1. ফ্রেশ ক্রিম: ১ কাপ

ফ্রেশ ক্রিম: ১ কাপ
Image Credit- Tradeindia

 

  1. লেবুর রস: ১ টেবিল চামচ (ঐচ্ছিক, টক স্বাদ বাড়ানোর জন্য)

 লেবুর রস: ১ টেবিল চামচ (ঐচ্ছিক, টক স্বাদ বাড়ানোর জন্য)
Image Credit- DMP News
  1. ভ্যানিলা এক্সট্র্যাক্ট: ১ চা চামচ (ঐচ্ছিক, সুগন্ধের জন্য)

ভ্যানিলা এক্সট্র্যাক্ট: ১ চা চামচ (ঐচ্ছিক, সুগন্ধের জন্য)

প্রস্তুতির পদ্ধতি

 ১. আম প্রস্তুত করা

কাঁচা আমের আইসক্রিম রেসেপি এর প্রথম ধাপ হলো কাঁচা আমের খোসা ছাড়িয়ে টুকরো করে নেওয়া। আমগুলোকে ব্লেন্ডারে দিয়ে মিহি করে ব্লেন্ড করুন যাতে একটি মসৃণ পেস্ট তৈরি হয়। যদি আম খুব টক হয়, তাহলে এতে ১ টেবিল চামচ লেবুর রস যোগ করতে পারেন। এটি আইসক্রিমে একটি টক-মিষ্টি স্বাদ যোগ করবে যা অনেকেই পছন্দ করেন।

২. মিশ্রণ তৈরি করা

একটি বড় পাত্রে দুধ এবং চিনি একসাথে মিশিয়ে নিন। চিনি সম্পূর্ণ দ্রবীভূত হওয়া পর্যন্ত ভালোভাবে মেশাতে থাকুন। এরপর এতে ফ্রেশ ক্রিম যোগ করুন এবং মিশ্রণটি একসাথে ফেটান। মিশ্রণটি ক্রিমি এবং মসৃণ হওয়া পর্যন্ত ফেটাতে থাকুন।

 ৩. আমের পেস্ট যোগ করা

যখন দুধ এবং ক্রিমের মিশ্রণটি প্রস্তুত হবে, তখন এতে আমের পেস্টটি যোগ করুন। আমের পেস্টটি দুধ ও ক্রিমের মিশ্রণের সাথে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন যাতে কোন দলা না থাকে। মিশ্রণটি সম্পূর্ণ মসৃণ হওয়া পর্যন্ত মেশাতে থাকুন।

 ৪. আইসক্রিম ফ্রিজ করা

মিশ্রণটি তৈরি হলে এটি একটি এয়ারটাইট কন্টেইনারে ঢেলে নিন। কন্টেইনারটি ঢেকে ফ্রিজারে রাখুন। মিশ্রণটি জমে যাওয়ার জন্য অন্তত ৬-৮ ঘণ্টা সময় নিন। মাঝে মাঝে (প্রতি ২ ঘণ্টা অন্তর) কন্টেইনারটি বের করে মিশ্রণটি নাড়িয়ে দিন। এটি আইসক্রিমকে আরও মসৃণ এবং ক্রিমি হতে সাহায্য করবে।

See also  মধু খাওয়ার নিয়মঃ জেনে নিন কোন রোগে কিভাবে খাবেন

টিপস এবং টুইস্ট

কাঁচা আমের আইসক্রিম রেসেপি এর মধ্যে কিছু বিশেষ টিপস এবং টুইস্ট অনুসরণ করলে আপনি একটি পারফেক্ট আইসক্রিম তৈরি করতে পারবেন। 

 ১. আমের ভিন্নতা

কাঁচা আমের পরিবর্তে আপনি আধা পাকা আমও ব্যবহার করতে পারেন। আধা পাকা আম আইসক্রিমের স্বাদে ভিন্নতা আনবে এবং এটি সামান্য মিষ্টি স্বাদ যোগ করবে যা অনেকের কাছে আরও উপভোগ্য হতে পারে।

 ২. চিনি ও সুইটনার

যাদের চিনি কম খাওয়ার নির্দেশ আছে, তারা চিনি কমিয়ে ব্যবহার করতে পারেন বা সুইটনার ব্যবহার করতে পারেন। বাজারে বিভিন্ন ধরনের সুইটনার পাওয়া যায় যা আপনি আপনার স্বাদ অনুযায়ী বেছে নিতে পারেন।

 ৩. দুধ এবং ক্রিম

আরও ক্রিমি টেক্সচার পাওয়ার জন্য পূর্ণচর্বিযুক্ত দুধ ও ফ্রেশ ক্রিম ব্যবহার করা ভালো। পূর্ণচর্বিযুক্ত দুধ এবং ফ্রেশ ক্রিম আইসক্রিমকে আরও মসৃণ এবং ক্রিমি করে তোলে। 

 ৪. অতিরিক্ত স্বাদ

আইসক্রিমের স্বাদ বাড়ানোর জন্য আপনি এতে ভ্যানিলা এক্সট্র্যাক্ট যোগ করতে পারেন। এছাড়াও, আপনি যদি চান তাহলে সামান্য লেবুর রস যোগ করতে পারেন যা আইসক্রিমের টক স্বাদ বাড়াবে।

পরিবেশন

এখানে কিছু সৃজনশীল এবং আকর্ষণীয় উপায় নিয়ে আলোচনা করা হলো যেগুলোর মাধ্যমে কাঁচা আমের আইসক্রিম রেসেপি আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। 

 ১. ক্লাসিক আইসক্রিম কাপে

কাঁচা আমের আইসক্রিম পরিবেশনের সবচেয়ে সহজ এবং প্রচলিত উপায় হলো এটি একটি আইসক্রিম কাপে পরিবেশন করা। আইসক্রিম স্কুপ দিয়ে একটি বা দুটি স্কুপ আইসক্রিম নিয়ে একটি সুন্দর আইসক্রিম কাপে পরিবেশন করুন। উপরে সামান্য আমের টুকরো, চিনি ছড়ানো পুদিনা পাতা এবং এক টুকরো লেবু দিয়ে সাজিয়ে দিন। এই সাধারণ উপায়ে পরিবেশন করলেও আইসক্রিমের সৌন্দর্য এবং স্বাদ অনেক বেড়ে যাবে।

 ২. কাঁচা আমের আইসক্রিম কন

আকর্ষণীয় এবং মজাদার উপায়ে আইসক্রিম পরিবেশনের একটি ভালো উপায় হলো আইসক্রিম কন ব্যবহার করা। বাচ্চাদের জন্য এটি একটি দারুণ পরিবেশন পদ্ধতি। আইসক্রিম কনের মধ্যে কাঁচা আমের আইসক্রিমের স্কুপ রাখুন এবং উপরে সামান্য আমের সস বা সিরাপ দিয়ে সাজিয়ে দিন। এই পদ্ধতিতে আইসক্রিম খাওয়া যেমন মজাদার, তেমনই সহজ।

See also  দুধ খাওয়ার সঠিক পদ্ধতি

 ৩. আইসক্রিম সান্ডে

কাঁচা আমের আইসক্রিম দিয়ে একটি সুন্দর আইসক্রিম সান্ডে তৈরি করা যেতে পারে। একটি সুন্দর গ্লাসে একাধিক স্কুপ কাঁচা আমের আইসক্রিম নিয়ে তার উপর হুইপড ক্রিম, চকলেট সস, এবং চেরি দিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করুন। এই সান্ডে আপনার অতিথিদের মুগ্ধ করবে এবং বিশেষ মুহূর্তগুলোকে আরও স্মরণীয় করে তুলবে।

 ৪. ফলের সালাদে আইসক্রিম

কাঁচা আমের আইসক্রিমের সাথে বিভিন্ন ফল মিশিয়ে একটি স্বাস্থ্যকর এবং সুস্বাদু ফলের সালাদ তৈরি করা যেতে পারে। আপেল, কলা, আঙুর, পেয়ারা এবং পেয়ারা মতো ফলগুলো ছোট ছোট টুকরো করে কেটে নিন। একটি বড় বাটিতে ফলগুলো মিশিয়ে নিন এবং তার উপর কাঁচা আমের আইসক্রিমের স্কুপ দিয়ে পরিবেশন করুন। এটি একটি পুষ্টিকর এবং স্বাদে ভরপুর ডেজার্ট।

 ৫. কাঁচা আমের আইসক্রিম পপসিকল

কাঁচা আমের আইসক্রিমের মিশ্রণটি পপসিকল মোল্ডে ঢেলে পপসিকল তৈরি করা যায়। এই পদ্ধতিতে আইসক্রিম খাওয়া যেমন মজাদার, তেমনই সহজ এবং পরিচ্ছন্ন। বাচ্চারা বিশেষ করে এই পদ্ধতিতে আইসক্রিম খেতে খুব পছন্দ করে। 

 ৬. আইসক্রিম স্যান্ডউইচ

কাঁচা আমের আইসক্রিম দিয়ে একটি দারুণ আইসক্রিম স্যান্ডউইচ তৈরি করা যেতে পারে। দুটি কুকিজের মধ্যে কাঁচা আমের আইসক্রিমের একটি স্কুপ রেখে স্যান্ডউইচ তৈরি করুন। এটি একটি চমৎকার এবং ক্রাঙ্কি ডেজার্ট যা আপনার অতিথিদের মুগ্ধ করবে।

 ৭. ডেজার্ট প্লেটার

কাঁচা আমের আইসক্রিম একটি ডেজার্ট প্লেটারে অন্যান্য মিষ্টান্নের সাথে পরিবেশন করা যেতে পারে। একটি বড় প্লেটে বিভিন্ন ধরণের মিষ্টান্ন, যেমন চকলেট কেক, পেস্ট্রি, এবং মাফিনের সাথে কাঁচা আমের আইসক্রিমের স্কুপ রেখে পরিবেশন করুন। এই পদ্ধতিতে পরিবেশন করলে আপনার ডেজার্ট প্লেটার আরও আকর্ষণীয় এবং সুস্বাদু হয়ে উঠবে।

উপসংহার

কাঁচা আমের আইসক্রিম একটি সহজ এবং সুস্বাদু ডেজার্ট যা গ্রীষ্মকালে তৃপ্তি এনে দেয়। কাঁচা আমের আইসক্রিম রেসেপি অনুসরণ করে আপনি খুব সহজেই ঘরে বসে এই টক-মিষ্টি স্বাদের আইসক্রিম তৈরি করতে পারবেন। উপকরণগুলি সহজলভ্য এবং প্রস্তুতির পদ্ধতিও অত্যন্ত সহজ। তাই দেরি না করে আজই তৈরি করে দেখুন কাঁচা আমের আইসক্রিম এবং উপভোগ করুন এর অনন্য স্বাদ।

See also  ঘরে বসে মজাদার খিচুড়ি রান্নার রেসিপি শিখুন

কাঁচা আমের আইসক্রিম তৈরির এই বিশেষ রেসিপিটি যদি আপনার ভালো লাগে তাহলে অবশ্যই আপনার বন্ধু-বান্ধবদের সাথে শেয়ার করুন এবং তাদেরকেও এই সুস্বাদু ডেজার্ট তৈরি করতে উৎসাহিত করুন।

সাধারণ প্রশ্নাবলী 

প্রশ্ন: কাঁচা আমের আইসক্রিম কি স্বাস্থ্যকর?

উত্তর: হ্যাঁ, কাঁচা আমের আইসক্রিম স্বাস্থ্যকর হতে পারে যদি এটি ঘরে তৈরি করা হয় এবং প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করা হয়। কাঁচা আম ভিটামিন সি, ভিটামিন এ, এবং অন্যান্য পুষ্টি উপাদানে সমৃদ্ধ। ঘরে তৈরি আইসক্রিমে সংরক্ষণকারী এবং কৃত্রিম রঙের ব্যবহার না থাকায় এটি আরও স্বাস্থ্যকর হয়ে ওঠে। 

প্রশ্ন: কাঁচা আমের আইসক্রিম কীভাবে সংরক্ষণ করা যায়?

উত্তর: কাঁচা আমের আইসক্রিম ফ্রিজারে সংরক্ষণ করা যায়। এটি একটি এয়ারটাইট কন্টেইনারে সংরক্ষণ করলে আইসক্রিমের টেক্সচার এবং স্বাদ ভাল থাকে। ফ্রিজারের তাপমাত্রা স্থির রাখা এবং ফ্রিজারের দরজা বারবার না খোলা চেষ্টা করা উচিত, যাতে আইসক্রিম জমে না যায় এবং স্ফটিক তৈরি না হয়।

প্রশ্ন: কাঁচা আমের পরিবর্তে অন্য কোন আম ব্যবহার করা যায়?

উত্তর: হ্যাঁ, কাঁচা আমের পরিবর্তে আপনি আধা পাকা আম ব্যবহার করতে পারেন। আধা পাকা আম আইসক্রিমে একটি মিষ্টি স্বাদ যোগ করে যা অনেকের কাছে আরও উপভোগ্য হতে পারে। 

প্রশ্ন: কাঁচা আমের আইসক্রিম বানাতে কতক্ষণ সময় লাগে?

উত্তর: কাঁচা আমের আইসক্রিম তৈরির প্রক্রিয়া সাধারণত ১৫-২০ মিনিট সময় লাগে। তবে, ফ্রিজারে সেট হতে ৬-৮ ঘণ্টা সময় লাগে। 

প্রশ্ন: কাঁচা আমের আইসক্রিমে কোন অতিরিক্ত উপাদান যোগ করা যায়?

উত্তর: কাঁচা আমের আইসক্রিমে বিভিন্ন অতিরিক্ত উপাদান যোগ করা যায় যাতে এর স্বাদ এবং বৈচিত্র্য বৃদ্ধি পায়। 

Rate this post
Vinay Tyagi
Vinay Tyagi
Articles: 3

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *