হলুদ দিয়ে রূপচর্চা

রুপচর্চায় হলুদের ব্যবহার সম্পর্কে আমরা কে না জানি!! বহুকাল ধরেই রুপচর্চায় ব্যবহার হয়ে আসছে এই হলুদ। ফর্সা, কোমল ও দাগহীন ত্বক আমাদের সকলেরই কাম্য। মুখের ত্বকে ব্রণ, মেছতা, বা কোনো কালো দাগ থাকলে স্বাভাবিক ভাবেই আত্মবিশ্বাস কমে যায়। ত্বকের সকল সমস্যা সমাধানের একটি জাদুকরী উপাদান হলো হলুদ। হলুদে রয়েছে ভিটামিন সি, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম যা ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধিতে দারুণ ভাবে কাজ করে। এছাড়াও হলুদের মধ্যে রয়েছে কারকিউমিন নামে একটি বিশেষ উপাদান। এটি কেবল হলুদেই পাওয়া যায়। এটিকে জাদুকরী উপাদান বলা হয়।

হলুদ খেলে ত্বকের রং ফর্সা হয় কারণ কারকিউমিন রং ফর্সা,ত্বক উজ্জ্বল করে,ভেতর থেকে উজ্জ্বলতা বাড়ায়। আয়ুর্বেদ চিকিৎসায় হলুদ একটি পরীক্ষিত ভেষজ উপাদান। এজন্য বলা হয়ে থাকে কাচা সোনার মতো উজ্জ্বল ত্বক চাইলে ভরসা করতে হবে কাচা হলুদেই। খাওয়া ও ত্বকে মাখা এ দু ভাবেই হলুদ ব্যবহার করা যায়। তবে ব্যবহারের আগে এর নিয়ম কানুন অবশ্যই যেনে নিতে হবে।কারণ সবার ত্বকের ধরণ এক নয়।ত্বকের ধরন অনুযায়ী হলুদের মাধ্যমে রুপচর্চা করলে উপকার হবেই। তবে আসুন জেনে নেই রুপচর্চায় হলুদ অনবাদ্য ব্যবহারঃ

ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করতেঃ প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে অথবা সকালে ঘুম থেকে উঠার পর এক গ্লাস দুধের সাথে এক চা চামচ পরিমাণ কাচা হলুদের রস মিশিয়ে খেলে ধীরে ধীরে ত্বকের রং ফর্সা হয়। এটা রক্ত পরিষ্কার করে, ত্বককে ভেতর থেকে সুন্দর করে। এক টুকরো কাচা হলুদ অল্প পরিমানে মধু অথবা চিনি কিম্বা গুড় মিশিয়েও খাওয়া যেতে পারে।

ত্বকে হলুদের ব্যবহারঃ হলুদ ত্বকে বিভিন্ন উপায় এ ব্যবহার করা যায়। এখানে কয়েকটি পদ্ধতি উল্লেখ করা হলোঃ

পদ্ধতি ১ঃ এক চা চামচ হলুদের রস, এক চা চামচ দুধ,এক চা চামচ বেসন ও আধা চা চামচ চন্দন গুড়ো এক সাথে মিশিয়ে ত্বকে লাগান। ১৫-২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন।

এটি ত্বক ফর্সা করবে। দুধ ত্বকের শুষ্ক ভাব দূর করবে। মুখ নিষ্প্রাণ, ক্লান্ত দেখাবে না।

পদ্ধতি ২ঃ কাচা হলুদ, মসুর ডাল এক সাথে বেটে, পেস্ট করে মুখে লাগিয়ে ২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। মুখের লালিমা বজায় থাকবে।

পদ্ধতি ৩ঃ হলুদের গুড়ো ও লেবুর রস অথবা শশার রস মিশিয়ে মিশ্রণ করে ত্বকে লাগিয়ে ১৫ মিনিট ধুয়ে ফেলুন। ত্বক মসৃণ হবে।

পদ্ধতি ৪ঃ কাচা হলুদ ও শুকনো কমলার খোসা একসাথে বেটে, স্ক্রাবার হিসাবে ব্যবহার করতে পারেন। প্রাকৃতিক উপায়ে ত্বকের উজ্জ্বলতা ফেরাবে এই স্ক্রাবার। এর সাথে নিম পাতা যোগ করলে যে কোনো চর্ম েরাগ প্রতিরোধ হবে। কাচা হলুদ ও নিম পাতা একত্রে বেটে কয়েকদিন লাগালে বসন্ত বা চুল্কানির দাগ থাকলে দাগ উঠে যাবে ও চামড়া ফর্সা হবে।

পদ্ধতি ৫ঃ কাচা হলুদ বাটা, বেসন,চালের গুড়া ও টক দই একসাথে মিশিয়ে পেস্ট করে মুখে ও গলায় লাগিয়ে রাখুন। শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলুন। এই প্যাকটি সপ্তাহে ৩ দিন লাগালে ত্বক উজ্জ্বল ও মসৃণ হবে। এটি ত্বকের ময়লা পরিষ্কার করার সাথে সাথে ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখে।

পদ্ধতি ৬ঃ কাচা হলুদ ও মসুর ডাল একত্রে বেটে বেটে মুলতানি মাটি ও গোলাপ জল সহযোগে পেস্ট তৈরি করে ত্বকে লাগান। নিয়মিত ব্যবহারে ত্বক হয়ে উঠবে উজ্জ্বল ও মসৃণ।

পদ্ধতি ৭ঃ রোদে পোড়া দাগ দূর করতে কাচা হলুদ বাটা, মসুর ডালবাটা ও মধু এক সাথে মিশিয়ে ত্বকে লাগান।

চোখের নিচের কালো ভাব দূর করতে কাচা হলুদঃ ১ চা চামচ হলুদ বাটা, ১ টেবিল চামচ টক দই ও ১ চা চামচ টমেটোর রস মিশিয়ে চোখের চারপাশে লাগিয়ে ১০-১৫ মিনিট পরে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। এভাবে কয়েকদিন করলে চোখের নিচের কালো ভাব দূর হবে।

চোখের নিচের বলিরেখা দূর করতেঃ ২/৩ চিমটি হলুদ গুড়ার সাথে মাখন মিশিয়ে চোখের নিচে ২০ মিনিট রাখতে হবে। পরে ঠান্ডা পানি দিয়ে চোখ ধুয়ে নিতে হবে। এটি চোখের নিচের বলিরেখা সহ কালো দাগ দূর করবে। সঠিক উপায়ে হলুদ ব্যবহার না করলে ত্বকের ক্ষতি হতে পারে। তাই হলুদ ব্যবহারের সাবধানতা সম্পর্কে জেনে নেয়া উচিত। কয়েকটি সাবধানতা উল্লেখ করা হলঃ

হলুদ সরাসরি ত্বকে মাখা উচিৎ নয়। হলুদ সবসময় অন্য কোনো উপাদান যেমন- পানি, তেল, বেসন, চন্দন গুড়া, চালের গুঁড়া ইত্যাদির সাথে মিশিয়ে ব্যবহার করতে হয়।

হলুদ দিয়ে কখনো রোদে বের হওয়া যাবে না। তাহলে ত্বক পুড়ে যাবে।

সপ্তাহে ২ দিনের বেশি কোনো প্যাক ব্যবহার করা যাবে না। বেশি ব্যবহারে ত্বকের ক্ষতি হয়।

হলুদের প্যাক লাগানোর পর ২০ মিনিটের বেশি রাখা যাবে না। বেশি সময় রাখলে ত্বক কালো হয়ে যেতে পারে।

হলুদে এ্যলার্জি থাকলে কোনো ভাবেই হলুদ ব্যবহার করা যাবে না।

5/5 - (40 Reviews)

One comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.