আনারসের উপকারিতা ও অপকারিতা এবং খাওয়ার নিয়ম

আনারস একটি সুস্বাদু এবং পুষ্টিকর ফল। পুষ্টিতে আনারস অতুলনীয়। আনারস অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপাদান সমৃদ্ধ। যা শরীরের কোষগুলোকে ক্ষয় থেকে রক্ষা করে। এটি এথেরোস্ক্লেরোসিস, হৃদরোগ, বাত এবং বিভিন্ন ক্যান্সার থেকে আমাদের শরীর কে রক্ষা করে। তাই আনারসের উপকারিতা সম্পর্কে আজকের প্রতিবেদন।

প্রতি 100 গ্রাম আনারসে 50 kcal শক্তি থাকে। এতে রয়েছে ভিটামিন-এ, বি, সি, ক্যালসিয়াম এবং অন্যান্য পুষ্টি উপাদান। 100 গ্রাম আনারসে 0.6 শতাংশ প্রোটিন, 0.12 গ্রাম সহজে হজমযোগ্য চর্বি, 0.5 গ্রাম খনিজ, 13.12 গ্রাম চিনি, 0.11 গ্রাম ভিটামিন বি -1, 0.04 মি। ছোলাতে রয়েছে ভিটামিন -২, ভিটামিন-সি 47.6 মিগ্রা, ক্যালসিয়াম 16 মিলিগ্রাম, ফসফরাস 0.02 গ্রাম, ফাইবার 1.4 গ্রাম এবং আয়রন 1.2 মিলিগ্রাম।

জ্বর ও জন্ডিস থেকে মুক্তিঃ জ্বর ও জন্ডিসের জন্য আনারস বেশ উপকারী। এতে রয়েছে প্রচুর ক্যালরি, যা আমাদের শক্তি যোগায়। গবেষণায় দেখা গেছে যে আনারস গলা ব্যথা এবং সাইনোসাইটিসের বিরুদ্ধে লড়াই করে। হজমে সাহায্য করে। এছাড়াও শরীরের অন্যান্য অংশ ভালো রাখে।

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতেঃ দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে আনারস সাহায্য করে। আবার আনারস ক্ষুধাবর্ধক  হিসেবে কাজ করে থাকে। যে কোনো অসুস্থতার পর মুখের রুচি ফিরে পাওয়ার  জন্য আনারস খাওয়া যায়।

মজবুত দাঁত পেতেঃ আনারস খেলে আপনার মাড়ি এবং দাঁত উভয়ের জন্যই ভালো হবে। আনারসে প্রচুর পরিমাণ  ক্যালসিয়াম রয়েছে। ক্যালসিয়াম দাঁতের জন্য উপকারী।

হার্ট সুস্থ রাখেঃ আনারস রক্ত ​​পরিষ্কার করে এবং হার্টের কাজ করতে সাহায্য করে। হার্ট আমাদের শরীরে অক্সিজেনযুক্ত রক্ত ​​সরবরাহ করে। এছাড়াও আনারস বিভিন্ন হৃদরোগ থেকে রক্ষা করে।

ত্বক ও জিহবার সুস্থতাঃ আনারস ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ। ত্বক, জিহ্বা, তালু, দাঁত ও মাড়ির যেকোনো রোগের বিরুদ্ধে আনারস লড়াই করে। তৈলাক্ত ত্বক এবং ব্রণ সহ শরীরের সমস্ত সৌন্দর্য বর্ধনে আনারসের অনেক উপকারিতা রয়েছে। আনারসের প্রোটিন ত্বকের মৃত কোষ দূর করে, ত্বককে কুঁচকে যাওয়া থেকে রক্ষা করে।

দেহে রক্ত জমাট বাধতে দেয় নাঃ এই ফল শরীরে রক্ত ​​জমাট বাঁধা রোধ করে। এতে করে রক্ত ​​সারা শরীরে সঠিকভাবে প্রবাহিত হতে পারে। ফলে শিরা এবং ধমনীর দেয়ালে সঠিকভাবে রক্ত প্রবাহিত হতে পারে । এই ফল রক্ত ​​পরিশোধনেও ভূমিকা রাখে।

কৃমিনাশকঃ আনারস কৃমিনাশক। কৃমি থেকে মুক্তি পেতে সকালে খালি পেটে আনারস খাওয়া উচিত। তবে অ্যাসিডিটি থাকলে খালি পেটে আনারস ক্ষতিকর হতে পারে।

হাড় শক্তিশালী করেঃ আনারস ম্যাঙ্গানিজ সমৃদ্ধ। যা হাড় এবং সংযোগকারী টিস্যুকে শক্তিশালী করে। এক কাপ আনারসের রস আমাদের দৈনিক ম্যাঙ্গানিজের ৭৩ শতাংশ পূরণ করতে সক্ষম।

পুষ্টির অভাব দূর করেঃ আনারস একটি পুষ্টিকর ফল। এই ফল ভিটামিন এ এবং সি, ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম এবং ফসফরাস সমৃদ্ধ। এই উপাদানগুলো আমাদের শরীরের পুষ্টির ঘাটতি পূরণে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।

চোখের স্বাস্থ্য রক্ষায়ঃ গবেষণায় দেখা গেছে যে আনারস আমাদের ম্যাকুলার অবক্ষয় থেকে রক্ষা করে। এই রোগ আমাদের চোখের রেটিনা ধ্বংস করে এবং আমরা ধীরে ধীরে অন্ধ হয়ে যাই। আনারসে রয়েছে বিটা ক্যারোটিন। প্রতিদিন আনারস খেলে এই রোগের ঝুঁকি 30 শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়। এটি আমাদের চোখকে সুস্থ রাখে।

ওজন কমায়ঃ ওজন কমাতে আনারস আমাদের অনেক সাহায্য করে। কারণ আনারসে রয়েছে প্রচুর ফাইবার এবং চর্বি রয়েছে অনেক কম। সকালে ফল খাওয়ার সময় আনারস,আনারসের সালাদ বা আনারসের জুস খাওয়া অনেক স্বাস্থ্যকর। তাই ওজন কমাতে চাইলে আনারস খান।

জ্বরে আনারসের উপকারিতা 

বর্তমানে ঋতু পরিবর্তনের ফলে সব বয়সের মানুষ  ঠান্ডা ও জ্বরে ভুগছে। অনেকে হুটহাট করে  ভাইরাস জনিত জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছে। হঠাৎ জ্বর হলে অনেকে ওষুধ খায়। কিন্তু জ্বর হলেই কি  ওষুধ খাওয়া উচিৎ? একদমই না. এমন অনেক খাবার আছে যা জ্বর নিরাময় করতে পারে। তেমনই একটি ফল হলো আনারস৷ বলা হয়ে থাকে জ্বরের শত্রু আনারস।

জ্বরের জন্য আনারস খুবই উপকারী। জ্বর হলে  আনারস খেতে পারেন। আর যদি কারো তিন দিনের বেশি জ্বর থাকে, তাকে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

সর্দি-কাশি বা ভাইরাস জ্বরের চিকিৎসা সাধারণত বাড়িতেই করা হয়। অতএব, জ্বরের তীব্রতা কমানোর পাশাপাশি রোগীর শরীরের সঠিক পুষ্টির চাহিদা বজায় রাখার জন্য, জ্বরের খাদ্য ব্যবস্থাপনা জানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

জ্বর ও জন্ডিসের জন্য আনারস বেশ উপকারী। এতে রয়েছে প্রচুর ক্যালরি, যা আমাদের দেহে শক্তি যোগায়। প্রচুর পরিমাণ প্রোটিন থাকায় এই ফলটি ত্বকের মৃত কোষ দূর করে, ত্বকে বলিরেখা হতে বাধা দেয়। তাজা আনারস খাওয়া ভালো।

তাই, গরম-ঠান্ডার জ্বর বা জ্বর ভাব দূর করতে ওষুধ খাওয়ার আগে আনারস খেতে পারেন।

আনারস খাওয়ার সঠিক সময়

ফল খাওয়া প্রায় সব স্বাস্থ্য সমস্যার সমাধান করতে পারে। আনারসের মধ্যেও রয়েছে স্বাস্থ্য সমস্যার হাজারো সমাধান। ত্বক ভালো রাখতে সমস্যা হোক বা কোষ্ঠকাঠিন্য! আনারস এর অনেক স্বাস্থ্য উপকারিতা আছে কারণ এতে উচ্চ মাত্রায় পটাশিয়াম, ফাইবার, ভিটামিন সি ইত্যাদি থাকে।

আনারস  আমাদের দেহে পুষ্টি জোগানোর পাশাপাশি ক্যালোরি নিয়ন্ত্রণ করে এবং দীর্ঘস্থায়ী রোগের ঝুঁকি কমায়। 

সকালে খালি পেটে এক গ্লাস পানি এবং আনারস ফল বা আনারসের জুস খাওয়া ভাল। কারণ সকালে আমাদের মেটাবলিজম বেশি হয়। এই সময়ে আমাদের পাচনতন্ত্র দ্রুত শর্করা ভেঙে দেয় যা আমাদের শরীরকে প্রয়োজনীয় পুষ্টিগুলি দ্রুত শোষণ করতে সাহায্য করে। এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সরবরাহ করে যা শরীরকে বিভিন্ন সংক্রমণ, মুক্ত মৌল, প্রদাহ ইত্যাদি থেকে রক্ষা করে। এ কারণেই ফলকে শক্তির ‘পাওয়ার হাউস’ও বলা হয়। আপনি যদি নিয়মিত ব্যায়াম করেন, ব্যায়াম শুরুর আগে এবং পরে আনারস খাওয়া ভালো।

রাতে বা ঘুমানোর ঠিক আগে আনারস  খাওয়া আপনার স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। এটি রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়াতে পারে এবং ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রধান খাবার এবং ফল খাওয়ার মধ্যে অন্তত ত্রিশ মিনিটের ব্যবধান রাখুন। খাওয়ার ঠিক আগে বা পরে আনারস  খাওয়া হজমের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। এর কারণ হল ফাইবারের পরিমাণ বেশি এবং ফাইবার হজম হতে সময় লাগে।

প্রধান খাবারের সাথে আনারস খাওয়া ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য বেশি ক্ষতির কারণ হতে পারে। কারণ এটি রক্তে চিনির পরিমাণ বাড়িয়ে দিতে পারে। ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে আনারস এবং খাবারের মধ্যে কমপক্ষে দুই ঘণ্টার ব্যবধান থাকতে হবে।

দুধ এবং আনারস একসাথে খেলে কি হয় ? 

আনারস খাওয়ার পর দুধ পান করা বা দুধ পান করার পর আনারস খাওয়ার প্রস্তাব দিলে কী করবেন? কিছু লোক সাহসের সাথে এটি করে। কিন্তু  অধিকাংশই এই কাজটি করবেন না। কারণ, আমরা ছোটবেলা থেকেই শুনে আসছি যে আনারসের পর দুধ পান করলে সাক্ষাত মৃত্যু! আনারস এবং দুধ একসাথে বা পর পর খাওয়া হলে মানুষ কি সত্যিই মারা যায়? 

দুধকে আদর্শ খাদ্য বলা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, দুধই একমাত্র তরল খাদ্য, যেখানে প্রায় সব ধরনের পুষ্টি উপাদান বিদ্যমান। দুধ প্রোটিন, চর্বি এবং কার্বোহাইড্রেটের একটি দুর্দান্ত ‘মিশ্রণ’। তাই দুধ যেকোন বয়সের মানুষের জন্য উপকারী।

অন্যদিকে, আনারস ভিটামিন সি সমৃদ্ধ। এটি ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম এবং ফসফরাসেরও একটি বড় উৎস। যেহেতু দেশে প্রচুর চাষ হয়, তাই আনারস গ্রাম থেকে শহরে সহজেই পাওয়া যায়।

কিন্তু যখন এই দুটি খাবার একসাথে পেটে যায়, তখন কি রেসলিং ট্যাগ টিম এর মতো যৌথ প্রচেষ্টায় আমাদের নাকাল করতে উদ্যোগী হয় ? বিজ্ঞান এই বিষয়ে কি বলে? বারডেমের প্রাক্তন প্রধান পুষ্টিবিদ আখতারুন নাহার আলো বলেন: “দুধ এবং আনারস একসাথে খেলে মানুষ মারা যায় এমন বলার কোন বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। এটি  নিতান্তই একটি খুব সাধারণ কুসংস্কার।”

যুক্তি হিসেবে তিনি কাস্টার্ডের কথা বলেছেন। এতে অন্যান্য ফল এবং দুধের সাথে আনারস রয়েছে। আইসক্রিম বা মিল্কশেকের মধ্যে আনারসের সঙ্গে দুধও ব্যবহার করা হয়। এসব খাবার খেয়ে মৃত্যু তো  দূরের কথা, ছোটখাটো সমস্যা নিয়েও কাউকে অভিযোগ করতে শোনা যায় না।

আনারসে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার। এ কারণেই আনারস খেলে অনেকেরই অ্যাসিডিটির সমস্যা হয়। অন্যদিকে অনেকে দুধ হজম করতে পারে না। ফলে বদহজম বা পেট খারাপ হয়। দুধে ল্যাকটোজেন নামক উপাদান থাকে। অনেকের পেটে এই ল্যাকটোজেন সহ্য হয় না। চিকিৎসা ভাষায় একে বলা হয় ল্যাকটোজেন অসহিষ্ণুতা।

এর মানে হল যে দুধ এবং আনারস একসাথে খেলেও এই সমস্যাগুলি তৈরি হয় না। আমাদের কিছু শারীরিক সমস্যা বা সীমাবদ্ধতার কারণে সমস্যা দেখা দেয়।

তাহলে মৃত্যুর মতো ভুল ধারণা কিভাবে এল? প্রশ্নের উত্তরে পুষ্টিবিদ আখতারুন নাহার আলো একটি লোককথা বলেছেন। আনারস সাধারণত ঝোপঝাড়ে পাওয়া যায়। আর ঝোপ মানে সাপের আনাগোনা। প্রচলিত আছে যে একবার একটি বিষাক্ত সাপ একটি আনারসের ঝোপে ছিলো। কোনো ভাবে সাপটি আনারসের উপর বিষ ঢেলে দিয়েছিলো। তারপর এক ব্যক্তি সেই বিষাক্ত আনারস খেয়ে ফেলল। তার পরপরই তিনি এক গ্লাস দুধ পান করলেন।কিছুক্ষণ পর, তিনি মারা যান। ফলস্বরূপ, লোকেরা ধরে নিয়েছিল যে আনারসের পরে দুধ পান করে সে তার জীবন হারিয়েছে, এবং তারপর থেকে কুসংস্কার ছড়িয়ে পড়ে যে সে একসঙ্গে আনারস এবং দুধ খেয়ে মারা গেছে।

আনারস খাওয়ার অপকারিতা

আনারস অন্যতম একটি সুস্বাদু ফল  যা আমরা সবাই খেতে ভালোবাসি। এছাড়া আমরা প্রায় বারো মাসই এই ফলটি পাই। এই ফলটিতে বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন রয়েছে এবং প্রায়শই চিকিৎসা কাজে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু আপনি কি জানেন এই সুস্বাদু আনারসেরও কিছু খারাপ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে। আসুন জেনে নেই বিষয়গুলো।

নারীর গর্ভপাত ঝুঁকিঃ আনারসের কারণে মহিলাদের  গর্ভপাত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। গর্ভাবস্থায় মহিলাদের আনারস খাওয়া নিষেধ। তবে আপনি চাইলে গর্ভাবস্থার পরে আনারস খেতে পারেন, কিন্তু আপনাকে শরীরের অবস্থা বুঝতে হবে এবং ডাক্তারের পরামর্শের পর এটি খেতে হবে।

বাতের ব্যথা হওয়ার ঝুঁকিঃ যখন আপনি আনারস খান, তখন এটি আপনার গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল ট্র্যাক্টে পৌঁছানোর পর অ্যালকোহলে পরিণত হয়। আর এর ফলে মানবদেহে বাতের ব্যথা হতে পারে। তাই যাদের বাতের ব্যথা আছে বা সন্দেহ হয় যে এটি বাত হতে পারে তাদের জন্য আনারস না ​​খাওয়াই ভালো।

রক্তে চিনির পরিমাণ বৃদ্ধি পায়ঃ আনারসে রয়েছে প্রচুর প্রাকৃতিক চিনি। আনারসের দুটি চিনির উপাদান হল সুক্রোজ এবং ফ্রুকটোজ যা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ক্ষতিকর। কিন্তু শরীরের ক্ষতি, এটা খাওয়ার উপর নির্ভর করে। আর আনারসে থাকা অতিরিক্ত চিনি আমাদের শরীরে রক্তে শর্করার পরিমাণ বাড়ায়। তাই সপ্তাহে ২ দিনের বেশি আনারস না খাওয়াই ভালো। 

ওষুধের প্রতিক্রিয়াঃ আনারসে ব্রোমেলেন থাকে যা ওষুধ তৈরিতে ব্যবহৃত হয় এবং যে কোন রোগীর প্রয়োজন হলে দেওয়া হয়। তাছাড়া, আপনি যদি কোনো কারণে অ্যান্টিবায়োটিক এবং অ্যান্টিকনভালসেন্ট ব্যবহার করেন, ডাক্তাররা আপনাকে আনারস খেতে নিষেধ করেন। কারণ এটি পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।

কাঁচা আনারসে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াঃ অনেকে কাঁচা আনারস ব্যবহার করেন জুস বানানোর জন্য কিন্তু এটি শরীরের জন্য ক্ষতিকর এবং খুবই বিষাক্ত। এবং মাঝে মাঝে কাঁচা আনারস খেলে বমির প্রবণতা দেখা দেয়।

রক্ত তরলিকরন ওষুধঃ রক্ত পাতলা করার জন্য যেসব ওষুধ তৈরি করা হয় তাতে আনারস ব্যবহার করা হয়। এই ফল শরীরে রক্ত ​​জমাট বাঁধতে বাধা প্রদান করে।

অ্যালার্জীর আক্রমণঃ আনারস খাওয়ার ফলে অনেক নারী ও পুরুষের অ্যালার্জি হতে পারে। অ্যালার্জির উপসর্গ হলে  ঠোঁট ফুলে যায় এবং গলা ব্যথা অনুভব হয়। তাই আনারস খাওয়ার আগে তা কেটে লবণ পানি  দিয়ে  ধুয়ে ফেলতে হবে। এভাবে ধুয়ে খেলে কোনো সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

দাঁতের জন্য ক্ষতিকরঃ আনারস আমাদের দাঁতের জন্য ক্ষতিকর। যাদের দাঁতে কেভিটিস এবং মাড়ির প্রদাহের সমস্যা রয়েছে, তাদের আনারস না ​​খাওয়াই ভালো।

মুখ ও গলার জন্য ক্ষতিকরঃ কাঁচা আনারসে প্রচুর পরিমাণে এসিডিটি থাকে যা আমাদের মুখ ও গলার ভেতরে শ্লেষ্মা তৈরি করে।এই ফল খাওয়ার পর অনেক সময় অনেকের পেটে ব্যথা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

5/5 - (52 Reviews)

Leave a Reply

Your email address will not be published.