আমলকির উপকারিতা ও অপকারিতা এবং খাওয়ার নিয়ম

আমলকির উপকারিতা ও অপকারিতা এবং খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে জানতে পারবেন এই পোস্টে।

প্রাচীনকাল থেকেই ভেষজ উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা হয় আমলকি। আমলকি ভেষজ গুণে ভরপুর একটি ফল এছাড়া এর পাতারও রয়েছে অনেক গুণ। প্রাচীনকাল থেকেই আয়ুর্বেদে আমলিক বা আমলা ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এই গাছটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার গ্রীষ্মমন্ডলীয় স্থানে পাওয়া যায়। এটি স্বাস্থ্য উপকারিতা একটি বিশাল বৈচিত্র্য আছে।

টক মিষ্টির ফল হচ্ছে আমলকী। আমলকীতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘সি’।আমলকীতে পেয়ারা ও কাগজি লেবুর চেয়ে ৩গুণ ও ১০গুণ, কমলার চেয়ে ১৫ থেকে ২০গুণ, আপেলের চেয়ে ১২০ গুণ বেশি ভিটামিন “সি” রয়েছে।

একজন বয়স্ক লোকের প্রতিদিন ৩০ মিলিগ্রাম ভিটামিন “সি ” -এর প্রয়োজন। আমলকীর রস শরীরের দ্রুত ওজন কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া নতুন চুল গজাতে এবং চুলের বৃদ্ধিতে জুড়ি নেই এই ফলটির।

আমলকির উপকারিতা ও অপকারিতা

শীতের মৌসুমে আমলকির উপকারিতা বেশ । ভিটামিন, খনিজ জাতীয় বৈশিষ্ট্য সমৃদ্ধ আমলকি এই সময় বাজারে সহজেই পাওয়া যায়। শীতে আমলকির কিছু বিশেষ সুবিধা রয়েছে।

আমলকির পুষ্টিরগুণ

পুষ্টি উপাদানপ্রতি ১০০ গ্রাম
ক্যালোরি135
চর্বি15 গ্রাম
ভিটামিন ডি50 আইইউ
ভিটামিন ই35 আইইউ

আমলকির উপকারিতা

আমলকির উপকারিতা

1. এটি ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা বজায় রাখতে সাহায্য করে।

2. এটি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমায়।

3. আমলকি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, এবং ফ্রি র‍্যাডিক্যালের বিরুদ্ধে লড়াই করে ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়তা করে। এটি উর্বরতাও উন্নত করে। আমলকি চোখের স্বাস্থ্য উন্নত করে।

4. শীতের সকালে আমলাকি খেলে আপনি সারা বছর সুস্থ থাকবেন।

5. আমলাকি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য খুব উপকারী। আক্রান্ত ব্যক্তি যদি প্রতিদিন মধুর সাথে আমলকির রস খান তবে এ রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

6. আমলকির রস কোষ্ঠকাঠিন্য ও পাইলসের সমস্যা দূর করতে পারে। এছাড়াও এটি পেটের গোলযোগ ও বদহজম রুখতে সাহায্য করে।

7. আমলকি হৃদরোগের জন্য ভাল। হার্টকে সুস্থ রাখতে শীতে প্রতিদিন আমলকি খাওয়ার অভ্যাস করুন। এটির সাহায্যে আপনার হৃদয়ের পেশী শক্তিশালী হবে, যার মাধ্যমে হৃদরোগীর শরীরে পরিষ্কার রক্ত ​​সরবরাহ করতে সক্ষম হবে এবং আপনি সুস্থ থাকবেন।

8. আমলকি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং মানসিক চাপ কমায়। কফ, বমি, অনিদ্রা, ব্যথা-বেদনায় আমলকি অনেক উপকারী। ব্রঙ্কাইটিস ও এ্যাজমার জন্য আমলকির জুস উপকারী।

9. এক গ্লাস দুধ বা পানির মধ্যে আমলকি গুঁড়ো ও সামান্য চিনি মিশিয়ে দিনে দু’বার খেতে পারেন। এ্যাসিডেটের সমস্যা কম রাখতে সাহায্য করবে।

10. শরীর ঠাণ্ডা রাখে, শরীরের কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে, পেশী মজবুত করে। এটি হৃদযন্ত্র, ফুসফুসকে শক্তিশালী করে ও মস্তিষ্কের শক্তিবর্ধন করে। আমলকির আচার বা মোরব্বা মস্তিষ্ক ও হৃদযন্ত্রের দুর্বলতা দূর করে। শরীরের অপ্রয়োজনীয় ফ্যাট ঝরাতে সাহায্য করে।

11. আমলকি আমাদের পাচনতন্ত্র এবং কিডনি সুস্থ রাখে।

12. আমলকি চুলের টনিক হিসেবে কাজ করে এবং চুলের পরিচর্যার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এটি নতুন চুল গজাতে ও চুল দ্রুত বেড়ে উঠতে সাহায্য করে। এছাড়া আমলকির রস চুলের গোড়া শক্ত করে ও চুলকে খুশকিমুক্ত রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

আরো পড়ুনঃ চুল থেকে খুশকি দূর করার উপায়, তৈলাক্ত চুলের যত্ন, চুলে আপেল সিডার ভিনেগার লাগানোর উপকারিতা, টাক পড়া বন্ধ করার উপায়: পরীক্ষিত সমাধান

13. ভিটামিন “সি” ছাড়াও আমলকীর রসে রয়েছে আয়রন, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস। এটি পরিপূর্ণ পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ পানীয়।

14. গর্ভাবস্থায় হাত-পায়ের পাতা ফুলে যাওয়া নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে আমলকি।

15. শিশুর স্মৃতি শক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে, আমলকি সেবনে তা আপনার গর্ভস্থ শিশুর স্মৃতি শক্তি বৃদ্ধিতে সাহায্য করবে।

আরো জানুনঃ চুলের জন্য আমলকির উপকারিতা এবং ব্যবহারের নিয়ম

আমলকির অপকারিতা

আমলকির উপকারিতা
আমলকির অপকারিতা

অনেক সময় হজমে সমস্যা সৃষ্টি করে আমলকি। যদি শরীরে পানিশূন্যতা সৃষ্টি হয়, সেক্ষেত্রে আমলকি খেলে এটি হজমের সমস্যা কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয়।

আমলকি হচ্ছে অ্যাসিডিক প্রকৃতির ভিটামিন সি-র গুরুত্বপূর্ণ উৎস। সাধারনত বেশি উপকার পেতে খালিপেটে আমলকি খাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। তবে এটি অনেক ক্ষেত্রে হিতে বিপরীত হতে পারে। অর্থাৎ খালিপেটে আমলকি অ্যাসিটিডি বাড়িয়ে দিয়ে শরীরে সমস্যা সৃষ্টি করে। যদি অতিরিক্ত অ্যাসিডিটির সমস্যা থাকে, তাহলে এটি এড়িয়ে চলাই ভালো।

আমলকিকে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ঔষধ হিসেবে ধরা হয়। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে এটি ডায়াবেটিসের ঔষধের কার্যকারিতায় বাধা সৃষ্টি করে। এটি রক্তে শর্করার পরিমাণ কমিয়ে দেয়, যা অনেক সময় রোগীর জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। সেজন্য যারা ডায়াবেটিসের ঔষধ সেবন করেন তাদের চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়েই আমলকি গ্রহণ করা উচিৎ।

জ্বর এবং ঠান্ডা ভাল করতে আমলকির জুড়ি নেই। এটি খুব দ্রুত শরীরের তাপমাত্রায় কমাতে সাহায্য করে। অনেক ক্ষেত্রে এটি উপকারের চেয়ে অপকারের কারণ বেশি হয়।

অ্যামালিকা খাওয়ার নিয়ম

  • এগুলিকে কেবল কেটে নিন এবং এক চিমটি লবণ দিয়ে খান।
  • হলুদ ও লবণ দিয়ে সেদ্ধ করুন।
  • রোদে শুকানো আমলিকা নিন।
  • এটি রস আকারে নিন।
  • তৈরি করুন আমলিকা চাটনি।
  • আমলিকা সবজি তৈরি করুন।

আরো পড়ুনঃ

5/5 - (12 Reviews)

Leave a Reply

Your email address will not be published.