গরুর মাংসের উপকারিতা

মানুষের খাদ্যাভ্যাসের মাংস একটি বড় অংশ জুড়ে আছে। ঘরের স্বাস্থ্যকর পরিবেশ থেকে রাস্তার পাশের ফুডকার্ট সবখানেই আছে মাংসের নানান পদ। আর তার প্রায় সবগুলোই মানুষের প্রিয় খাবারের তালিকায় প্রথম সারিতেই রয়েছে গরুর মাংস।

স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, হার্ভার্ডের গবেষকরা ৮১ হাজার মানুষের খাদ্যাভ্যাস প্রায় ৮ বছর ধরে পর্যবেক্ষণ করে জানতে পেরেছেন, যারা এই আট বছরে প্রতিদিন ‘হাফ সার্ভিং’ বা তারও বেশি পরিমাণ প্রক্রিয়াজাত মাংস খেয়েছেন তাদের পরবর্তী আট বছরে মৃত্যুবরণ করার আশঙ্কা যারা এত নিয়মিত মাংস খাননি তাদের তুলনায় বেড়েছে ১৩ শতাংশ। একই পরিমাণ অপ্রক্রিয়াজাত মাংস খাওয়ার কারণে মৃত্যুর আশঙ্কা বাড়ে প্রায় নয় শতাংশ। আজ আমরা এই প্রতিবেদনে গরুর মাংস সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করবোঃ

গরুর মাংসের উপকারিতা

গরুর মাংস অতি শক্তিশালী ও পুষ্টিকর একটি খাবার। এই খাদ্যের মধ্যে মজুদ পুষ্টি উপাদান গুলো শরীরের বিভিন্ন উপকারে আসে। বাংলাদেশের মানুষ মাংসের মধ্যে গরুর মাংস খেতেই সবচেয়ে বেশি পছন্দ করে।

চলুন গরুর মাংস খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে জেনে নেইঃ

প্রোটিনঃ গরুর মাংস প্রোটিন জাতীয় খাদ্যের অন্তর্ভুক্ত। প্রাণী থেকে সংগ্রহ হয় বলে এটি প্রাণিজ প্রোটিন।

গরুর মাংস থেকে উচ্চ মাত্রার প্রোটিন পাওয়া যায়। মাংস ছাড়াও হাড়, কলিজা, মগজ ইত্যাদি থেকেও প্রোটিন চলে আসে। গরুর মাংসের প্রোটিন থেকে যে অ্যামাইনো এসিড পাওয়া যায় তা হাড় ও মাংসপেশির কাজে অনেক সাহায্য করে। ১০০ গ্রাম গরুর মাংসে ২২.৬ গ্রাম প্রোটিন পাওয়া যায়।

জিংকঃ গরুর মাংসের পুষ্টি উপাদানের মধ্যে রয়েছে জিংক। যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

ফসফরাসঃ ফসফরাস হাড় ও দাঁত মজবুত করতে সাহায্য করে।

আয়রনঃ গরুর মাংসে রয়েছে আয়রন। যা রক্তস্বল্পতা দূরীকরণ এবং শরীরের সব কোষে অক্সিজেন সরবারাহে সাহায্য করে। গরুর মাংসের আয়রন শরীরে আয়রনের ঘাটতি পূরণে সহায়ক। এই মাংসের আয়রন শরীরে ভালোভাবে শোষিত হয়। আয়রনযুক্ত অনেক খাবারের তুলনায় গরুর মাংস অনেক বেশি আয়রন দিয়ে থাকে। তাই রক্তস্বল্পতা দূরীকরণে গরুর মাংস বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

জিংকঃ গরুর মাংসের অপর একটি গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান হলো জিংক। অনেকেই এর অভাবে ভূগে থাকেন। বিশেষ করে কিশোর- কিশোরীরা। গরুর মাংসের জিংক শরীরে প্রায় ২৫ শতাংশ শোষিত হয়। তাই জিংকের অভাব দূরীকরণে গরুর মাংসের জুরি নেই।

এছাড়াও গরুর মাংস থেকে প্রাপ্ত ভিটামিন বি১২, বি৬ এবং বিরোফ্রাবিন শরীরে শক্তি সরবরাহ করে।

গরুর মাংসে অনেক রকম পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায়, যা তুলনামূলক ভাবে অনেক খাবারেই কম পাওয়া যায়। ওই সব পুষ্টি উপাদানের শারীরিক চাহিদাও থাকে।

আবার অতিরিক্ত পুষ্টি উপাদান মজুদ থাকায় কখনো কখনো শরীরের স্বাভাবিক কাজে ব্যাঘাত সৃষ্টি করে। তাই গরুর মাংস গ্রহণ করার ক্ষেত্রে সঠিক পরিমাণ বজায় রাখা অনেক জরুরি। সঠিক প্রস্তুত প্রণালি ও পর্যাপ্ত পরিমাণে গরুর মাংস খেলে আমাদের শরীরের অনেক উপকার হয়ে থাকে।

গরুর কলিজা খাওয়ার উপকারিতা

প্রাণীর একটি গুরুত্বপূর্ণ শারীরিক উপাদান কলিজা । আমরা আমাদের শরীরের দৈহিক চাহিদা মেটাতে বা রসনার তৃপ্তিতে গরু জবাই করে তার মাংস খেয়ে থাকি। প্রাণীর দেহের যেসকল অংশগুলো আমরা খেয়ে থাকি কলিজা তার মধ্যে একটি অন্যতম।

খাদ্য হিসেবে গরুর কলিজা আমাদের শরীরের নানা উপকার করে। রক্ত মানব শরীরের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। রক্তহীন কোনও মানুষ বাচতে পারে না। আর এই রক্ত তৈরির প্রধান উপাদান হচ্ছে আয়রন। এই আয়রন প্রচুর পরিমাণে রয়েছে গরুর কলিজায়। রক্তের প্রধান উপাদানের নাম লোহিত রক্ত কণিকা (আরবিসি)। এই কণিকার পরিমাণ বৃদ্ধি ও পুষ্ট করার জন্য আয়রনের গুরুত্ব অপরিহার্য। আর শরীরের আয়রন বৃদ্ধিতে কলিজা খাওয়া বিশেষ উপকারী।

বড় কোনও অপারেশনের পর, প্রচুর রক্তক্ষরণের পর, গর্ভাবস্থায়, সন্তান জন্মদান বা মাতৃদুগ্ধ দানকালীন সময়ে কলিজা খাওয়া যথেষ্ট উপকারী। তবে হৃৎপিণ্ডের বাইপাস সার্জারি বা রিং পরানো, উচ্চ রক্তচাপ জনিত রক্তক্ষরণের পরে কলিজা খাওয়া ঠিক নয়। কারণ, এতে দেহে কোলেস্টেরলের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। শিশু থেকে ৪০ বছর বয়স্ক মানুষের জন্য যথেষ্ট দরকারি খাদ্য উপাদান হলো কলিজা। কলিজায় ভিটামিন ‘এ’ এবং আমিষ রয়েছে প্রচুর পরিমাণে। এই উপাদানগুলো দেহের বর্ধনের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ।

কলিজায় আরও রয়েছে উচ্চমাত্রার ভিটামিন বি-সিক্স। কলিজার ভিটামিন ‘এ’ শীতকালীন ঠাণ্ডা-কাশির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। আমাদের শরীরের শিরা-উপশিরার ভেতর দিয়ে রক্ত প্রবাহিত হয়। কলিজার কোলাজেন ও ইলাস্টিন নামের উপকরণ এই শিরা-উপশিরার। সেলেনিয়াম নামের আরও একটি জরুরি উপাদান আছে এই কলিজায়। সেলেনিয়াম হ্রাস করে ক্লোন দেয়ালকে প্রসারিত করে । ফলে রক্ত প্রবাহ সহজ হয় ক্যানসারের পরিমাণ।

এছাড়াও সেলেনিয়াম শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি, ইনফেকশন, শরীরের জয়েন্টে ব্যথা, কৃমির পরিমাণকে কমিয়ে দেয়। আমাদের শরীরে ঠাণ্ডা জনিত জ্বর, টনসিলাইটিস, সর্দি সৃষ্টিকারী ভাইরাস নামক জীবাণুর বিরুদ্ধে কাজ করে জিংক। কলিজায় রয়েছে মাত্রা অতিরিক্ত পরিমাণে জিংক। তাই শরীরের জিংকের চাহিদা মেটানোর জন্য কলিজা খাওয়া খুবই জরুরী। ছোটদের জন্য মুরগির কলিজাও উপকারী।

শিশু থেকে ৪০ বছর পর্যন্ত বয়সীদের নিয়মিত কলিজা খাওয়া উচিৎ। বয়স ৪০ অতিক্রম করলে কলিজা না খাওয়ায় উত্তম, আর যদি খেতেই হয় তবে অল্প পরিমাণে দীর্ঘ দিন পর পর। যাদের উচ্চ রক্তচাপডায়াবেটিস আছে বা রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমাণ বেশি এমন ব্যক্তিদের জন্য কলিজা খাওয়া উচিৎ না। সঠিক বয়সে পরিমাণ মতো নিয়মিত কলিজা খেলে আমাদের শরীরের সুস্থতায় বিশেষ অবদান রাখে কলিজা। সেজন্য প্রত্যেকের উচিত আহারের তালিকায় খাদ্য হিসেবে কলিজাকে প্রাধান্য দেয়া।

যৌন জীবনে খাদ্য হিসেবে কলিজার প্রভাব খুবই ইতিবাচক। কারণ কলিজায় প্রচুর পরিমাণে জিঙ্ক থাকে। আর এই জিঙ্ক শরীরে টেস্টোস্টেরন হরমনের মাত্রা বেশি পরিমানে রাখে। যথেষ্ট পরিমাণে জিঙ্ক শরীরে না থাকলে পিটুিইনারি গ্রন্থি থেকে হরমোন নিঃসৃত হয়না। পিটুইনারি গ্রন্থি থেকে যে হরমোন নিঃসৃত হয় তা টেস্টোস্টেরন তৈরি হওয়াতে সাহায্য করে। তাছাড়া জিঙ্ক এর কারণে আরোমেটেস এনজাইম নিঃসৃত হয়। এই এনজাইমটি অতিরিক্ত টেস্টোস্টেরোনকে এস্ট্রোজেনে পরিণত করতে সাহায্য করে। এস্ট্রোজেনও যৌনতার জন্য প্রয়োজনীয় একটি হরমোন।

গরুর মগজ খাওয়ার উপকারিতা

পূর্বে মধ্যপ্রাচ্যের একটি স্বাদ হিসেবে বিবেচনা করা হতো গরু, খাসি বা ভেড়ার মগজকে। পরবর্তীতে ১৯ শতক থেকে গরুর মগজ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পরিবেশন করা হয়েছে। প্রোটিন ও ভিটামিনের উৎস গরুর মগজ। পুষ্টি বিজ্ঞানিরা বলছেন, স্বাদে গুণে ভরপুর মগজে রয়েছে ভিটামিন বি১২,সেলোনিয়াম ও এন্টিঅক্সিডেন্ট যা ক্যান্সার সৃষ্টিকারি ফ্রিরেডিকেল তৈরিতে বাধা দেয়।আর এতে থাকা ডেকাসোহেক্সানয়িক এসিড হার্টের রোগের ঝুঁকি কমানো ছাড়াও মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়ায় বহুগুণ।

গবেষণা আরও বলছে এতে রয়েছে প্রোটিন, ভিটামিন বি১২ বা কোবালামিন, প্যান্টোথেনিক এসিড, কপার,জিংক, সেলোনিয়াম ও ফসফরাসের মত উপাদান। এতে থাকা ফসফরাস হাড়কে মজবুত করা ছাড়াও হরমোনের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ করতে কার্যকরি।

এছাড়াও এতে থাকা ভিটামিন বি১২ বা কোবালামিন ডি. এন. এ সংশ্লেষ করতে এবং লোহিত রক্ত কণিকা তৈরিতেও কাজ করে।

প্রোটিন এবং স্বাস্থ্যকর ফ্যাট থাকায় এটি পেশির সুস্থতা বজায় রাখতেও কাজ করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় বহুগুণে।

এতে থাকা সেলেনিয়াম ও কপারের মতো উপাদান সংযোগ টিস্যু গুলোতে শক্তিশালী করতে এবং ফ্রিরেডিকেল সৃষ্টিকে বাধা দিয়েও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে কাজ করে।আর খাদ্যকে শক্তিতে রুপান্তর করা ছাড়াও হরমোন উৎপাদনেও ভূমিকা রাখে এই উপাদান দুটি।

মগজের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো এতে উচ্চ মান সম্পন্ন প্রোটিন থাকে এবং এই প্রোটিন আমাদের শারীরিক গ্রোথ বাড়িয়ে দেয়। বিশেষ করে বাচ্চাদের গোথ বৃদ্ধিতে খুব উপকারে আসে।

গরুর মগজে প্রায় ১২ শতাংশেরও বেশি প্রোটিন থাকে তবে কোলেস্টেরলের পরিমাণ বেশি থাকায় উচ্চরক্তচাপ ও হার্টের রোগীদের নিয়ম মেনে মগজ খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন পুষ্টি বিজ্ঞানীরা।

গরুর পা খাওয়ার উপকারিতা

হাড়ের স্যুপে মিনারেলের পাশাপাশি ভিটামিন ও থাকে। এতে উচ্চমাত্রার ম্যাগনেসিয়াম থাকে। এছাড়াও আয়রন, সেলেনিয়াম, কপার, ফসফরাস, পটাসিয়াম, সোডিয়াম, ভিটামিন সি ও বি৬ এর ভালো উৎস হাড়ের স্যুপ। হাড়ের স্যুপে কন্ডিশনাল অ্যামাইনো এসিড থাকে। এই ধরণের অ্যামাইনো এসিড আমাদের শরীরে উৎপন্ন হয় না, তাই খাদ্য থেকে এদের গ্রহণ করতে হয়। হাড়ের স্যুপে যে ৪টি অ্যামাইনো এসিড থাকে সেগুলো হল- আরজিনিন, গ্লিসাইন, গ্লুটামিন ও প্রোলিন। এই অ্যামাইনো এসিড গুলো ইমিউন ফাংশন, অন্ত্রের কাজ, জ্ঞানীয় ক্ষমতা এবং বডি ডিটক্সের জন্য প্রয়োজনীয়। হাড়ের স্যুপের স্বাস্থ্য উপকারিতা সমূহ :

অন্ত্রের সমস্যা নিরাময়ে সাহায্য করেঃ যাদের অন্ত্রের বিভিন্ন ধরণের সমস্যা যেমন- লিকি গাট বা হজমের সমস্যা থাকে তারা প্রতিদিন ১ কাপ হাড়ের স্যুপ খেলে কিছু কিছু ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব। অন্ত্রের ছিদ্রগুলোকে মেরামত করতে কার্যকরী ভূমিকা রাখে হাড়ের স্যুপের জেলাটিন। ডায়রিয়া, খাদ্যের অসহনীয়তা, কোষ্ঠকাঠিন্য ও পেট ফাঁপার সমস্যাগুলো হয় অন্ত্রের ছিদ্রের অসামঞ্জস্যতার জন্য।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করেঃ হাড়ের স্যুপ ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে পারে কিনা তা এখনো জানা যায়নি। তবে অনেক ধরণের স্বাস্থ্যগত সমস্যা সমাধান করতে সাহায্য করে হাড়ের স্যুপ এবং এই কাজটি করে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতি ঘটানোর মাধ্যমে। হাড়ের স্যুপের প্রচুর খনিজ উপাদানের উপস্থিতি, অ্যামাইনো এসিড ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের জন্যই এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতি ঘটাতে পারে।

ভাইরাস ও ঠান্ডার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেঃ সাধারণ ঠান্ডার উপসর্গগুলো কমতে সাহায্য করে হাড়ের স্যুপ। হাড়ের স্যুপ সাইনাস ও শ্বাসনালীর পথ পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। এটি হজম সহায়ক পুষ্টি উপাদান সমৃদ্ধ। তাই অসুস্থ হলে মুরগীর স্যুপ খাওয়ার কথা বলা হয়।

জয়েন্টের ব্যথা দূর করেঃ বছরের পর বছর ধরে মানুষ জয়েন্টের ব্যথায় আরাম পাওয়ার জন্য গ্লুকোসামাইন সাপ্লিমেন্ট ব্যবহার করছেন। হাড়ের স্যুপে গ্লুকোসামিন থাকে, তার অর্থ হাড়ের স্যুপ অস্থি সন্ধির ব্যথা কমাতে কার্যকরী হতে পারে। এছাড়াও হাড়ের স্যুপ হাড়কে শক্তিশালী করে এবং অষ্টিওপোরোসিস প্রতিরোধ করে।

তাছাড়া হাড়ের রসে কোলাজেন থাকে বলে এই স্যুপ খেলে ত্বককে দৃঢ়, উজ্জ্বল ও তরুণ রাখে, অন্ত্রের যে ব্যাকটেরিয়া স্থূলতার জন্য দায়ী তাদের দূর করে ওজন কমতে সাহায্য করে হাড়ের স্যুপ, মিনারেল ও ইলেক্ট্রোলাইটের উপস্থিতির জন্য শরীর হাইড্রেটেড থাকতে সাহায্য করে হাড়ের স্যুপ।

গরুর মাংস বেশি খেলে কি হয়

গরুর মাংসে রয়েছে কোলেস্টেরল, সোডিয়াম ও ফ্যাট যা অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের মতো বেশি পাওয়া যায়। অতিরিক্ত গরুর মাংস খেলে রক্তে চর্বির মাত্রা বেড়ে যেতে পারে, যা হার্টের রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। বিশেষ করে গরুর মাংসের ঝোল বা স্টক থেকে প্রচুর সম্পৃক্ত চর্বি পাওয়া যায়, যা রক্তনালিতে জমে এথেরোসক্লেরসিস ঘটাতে পারে। যা থেকে পরবর্তীকালে স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। গরুর মাংসের অতিরিক্ত সোডিয়াম শরীরের জন্য ক্ষতিকর। বিশেষ করে উচ্চ রক্তচাপ সৃষ্টিতে বা বাড়াতে সোডিয়াম সাহায্য করে।

তাই অতিরিক্ত গরুর মাংস ঘন ঘন খেলে উচ্চ রক্তচাপ হতে পারে, যা হার্টের রোগ, স্ট্রোক বা কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। অতিরিক্ত গরুর মাংস খেলে কোষ্টকাঠিন্য হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

গরুর মাংস প্রথম শ্রেণির প্রোটিনের ভালো উৎস। তাই অতিরিক্ত গরুর মাংস খেলে তা থেকে প্রাপ্ত প্রোটিন কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। এছাড়া অতিরিক্ত গরুর মাংস খেলে রক্তে ইউরিক এসিডের মাত্রা বেড়ে যায়।

যেকোনো খাবারের ভালো খারাপ দুটো দিকই থাকে। অতিরিক্ত খেলে অতিরিক্ত পুষ্টি পাওয়া যায়, আবার কম খেলে পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি থাকে। তাই সুস্থ থাকার লক্ষ্যে সবাইকে সুষম খাবারের পরামর্শ দেয়া হয়। সব ধরনের খাদ্যই স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে রান্না করে পরিমাণ বজায় রেখে খেলে যে কোনো স্বাস্থ্য ঝুঁকি এড়িয়ে সুস্থ থাকা সম্ভব।

আরো পড়ুনঃ

5/5 - (43 Reviews)

Leave a Reply

Your email address will not be published.