ডিমের পুষ্টিগুণ

আজকাল মানুষ ভীষণ ভাবে স্বাস্থ্য সচেতন হয়ে উঠেছে। আর এই স্বাস্থ্যের কথা ভেবে অনেকে অনেক খাবার পছন্দ করে খায়। আবার এই পছন্দ করতে গিয়ে কিছু খাবার না বুঝেও বাদ দিয়ে ফেলে। আজ তেমন একটি খাবার নিয়ে আলোচনা করব যেটা নিয়ে মানুষের একটু ভূল ধারণা আছে। সেই খাবার টি হলো ডিম। অনেকেই তাদের খাদ্য তালিকা থেকে ভয় বা ভুল ধারণার জন্য ডিম কে বাদ দিয়ে দেয়। কিন্তু ডিম হলো প্রথম শ্রেণির প্রাণিজ প্রোটিন আর এটা সবচেয়ে সস্তা। তাই সপ্তাহে অন্তত ২-৩ দিন আমাদের খাদ্য তালিকায় ডিম থাকা টা অত্যন্ত জরুরি।

আমাদের দেহ সুস্থ সবল রাখতে পুষ্টি উপাদানের প্রয়োজন রয়েছে। প্রতিদিন বিভিন্ন খাদ্য গ্রহন করি। আর ডিম ও এদের মধ্যে অন্যতম। কিন্তু আমরা সকল ডিমের পুষ্টিগুণ জানি না। ডিম আমাদের খাদ্য তালিকায় প্রথম সারিতে রয়েছে। সব ডিমের পুষ্টিগুণ এক নয়। বিভিন্ন ডিমের পুষ্টিগুণ বিভিন্ন। ডিমের মধ্যে আমাদের প্রয়োজনীয় সকল পুষ্টি নিহিত। তাই ডিম খাওয়ার উপকারিতা রয়েছে অনেক। ডিমে প্রোটিন, ফ্যাট, কোলেস্টেরল,কার্বোহাইড্রেট ,ক্যালসিয়াম,পানি,আয়রন,পটাসিয়াম সহ অনেক পুষ্টি গুণ রয়েছে। আর এই গুলো আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং দেহকে শক্তিশালী করে। ডিমে উচ্চমাত্রায় ক্যালরি রয়েছে।যা শরীর সুস্থ সতেজ রাখতে অগ্রনী ভূমিকা পানল করে।

আজ আমরা এই লেখায় বিভিন্ন প্রকার ডিমের পুষ্টিগুণ নিয়ে আলোচনা করবঃ

ডিমের পুষ্টিগুণ

মুরগির ডিম একটি আর্দশ খাদ্য সবার জন্য। পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ ডিম নিয়মিত খাওয়ার অভ্যাসে মিলবে অনেক উপকার। বিজ্ঞানীগণ এত দিন ডিম গ্রহণের বিপক্ষে মত দিলেও এখন এর উপকারী দিক বিবেচনায় নিয়ে নিয়মিত ডিম খাওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন।
মুরগির ডিম পুষ্টিগুন সমৃদ্ধ একটি খাবার। এতে শর্করা, প্রোটিন, স্নেহ, বিভিন্ন খনিজ পদার্থ ও ভিটামিন রয়েছে। এসকল পুষ্টির কারনে ডিমের উপকারিতা অনেক। আমাদের দেশে সাধারনত মুরগীর ডিম, হাঁসের ডিম, কোয়েল পাখির ডিম মানুষ বেশি পছন্দ করে থাকে।
ডিমে ভালো কোলেস্টেরল এর পরিমান বেশি যার কারনে এখন ডাক্তাররা প্রতিদিন একটি ডিম খেতে বলেন।

মুরগির ডিমে যেসকল পুষ্টি উপাদান থাকেঃ

সম্পূর্ণ সেদ্ধ আস্ত একটি ডিমে আছে

শর্করা ১.১২ গ্রাম

স্নেহ পদার্থ ১০.৬ গ্রাম,

প্রোটিন ১২.৬ গ্রাম,

কোলেস্টেরল ৫ গ্রাম, যার মধ্যে ভাল কোলেস্টেরলের মাএা ৩.৫ গ্রাম। বাকি অংশটুকু মন্দ কোলেস্টেরল এলডিএল। ভাল কোলেস্টেরলের অংশ বেশি।

তাছাড়া রয়েছে লৌহ,

ফসফরাস,

ক্যালসিয়াম,

খনিজ পদার্থ,

ভিটামিন-এ,

থায়ামিন এবং

ভিটামিন ডি।

পানির পরিমাণ ৭৫ গ্রাম।

দেশী মুরগীর ডিম বনাম ব্রয়লার মুরগীর ডিমঃ

ব্রয়লার মুরগী থেকে দেশী হাঁস-মুরগী ডিমে ভিটামিন এ ও ডি পরিমাণ বেশি থাকে।তাই ডিমের কুসুমের রং গাঢ় কমলা হয়। কারণ হিসেবে বলা যায়, দেশী হাঁস-মুরগী রৌদ্রের আলোতে বড় হয়। অন্যদিকে ব্রয়লার মুরগী আধুনিক পরিবেশে খামারে লালন-পালন করা হয় বলে সূর্যের আলোর স্বল্পতা রয়ে যায়।ব্রয়লার মুরগীর তাই ডিমের কুসুমের রং হালকা কমলা।তবে এই ডিমে ভিটামিন এ ও ডি পর্যাপ্ত পরিমাণ পাওয়া যায়।যা থেকে দেহের সুষম খাদ্যের চাহিদা মেটানো সম্ভব।

আমেরিকার একটি হার্ট সংস্থার গবেষণায় উঠে এসেছে যে, একজন মানুষের প্রতিদিন ৩০০ মিলিগ্রাম কোলেস্টরল প্রয়োজন। একটি বড় আকৃতির ডিমে ১৮৬ এবং ছোট আকৃতির ডিমে ১৪১ গ্রাম কোলেস্টেরল রয়েছ। তাছাড়া আমাদের দেহে ধরনের ২০টি অ্যামাইনো এসিড প্রয়োজন হয়। যার মধ্যে দেহে ১১টি সক্রিয় ভাবে তৈরি হয়।বাকি ৯টি অম্যাইনো এসিডে পাওয়ার সহজ সমাধান একটি ডিম।

মুরগির ডিমের মধ্যে আরো রয়েছে কোলিন।যা মস্তিষ্কের প্রচুর উন্নতি ঘটায়। বিশেষত গভার্স্থায় শিশুর মস্তিষ্কের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাছাড়াও ডিমে লুটেইন ও জিয়াজাথিন নামে দুটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছ। যা চোখের দৃষ্টি শক্তি ভালো রাখতে সাহায্য করে।

ডিম একটি সুষম খাদ্য। জাতিসংঘের কৃষি এবং খাদ্য সংস্থার মতে প্রতি বছর গড়ে কমপক্ষে ১০৪টি ডিম খাওয়া উচিত। তাই বলা যায়,আপনার প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় সুষম খাদ্যের সঠিক ব্যালেন্স রাখতে একটি ডিম রাখতেই পারেন।

মুরগির ডিমে রয়েছে ভিটামিন বি-১২ যা সহজে ক্লান্ত হওয়া থেকে রক্ষা করবে এবং শরীরকে এনার্জি প্রদান করবে দীর্ঘসময়। তাছাড়া ভিটামিন এ আপনার চোখের দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখা এবং চোখকে ছানি পরা থেকে দূরে রাখবে সাথে বয়সকালের সমস্যা গুলো।আরও রয়েছে ভিটামিন ডি যা পেশী ব্যাথা কমাতে সাহায্য করে।

মুরগির ডিম প্রোটিনের একটি ভালো উৎস যা মাংসপেশি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ৫০-১৭৫ গ্রাম প্রোটিন প্রয়োজন।প্রতি একটি ডিম গ্রহণে ৬-৭ গ্রাম প্রোটিন পাওয়া যায়।তাই বলা যায়,প্রতিদিন দুইটি ডিম খাওয়া যেতেই পারে।ব্রিটিশ ডায়েটক অ্যাসোসিয়েশনের ড.ফ্র্যাস্কি ফিলিপস্ বলেছেন, “ দিনে একটা-এমনকি দুটো ডিমও স্বাস্থ্যের পক্ষে ভালো” ।

মুরগির ডিমে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে কলিন যা আমাদের মস্তিষ্কের নিউরোট্রান্সমিটার হিসেবে কাজ করে এবং যকৃত ও স্নায়ুতন্ত্র নিয়ন্ত্রণে রাখে।তাছাড়া ভালো ফ্যাট পলিআনস্যাচুরেটড এবং মনোআনস্যাচুরেটেড আছে যা স্যাচুরেটেড ফ্যাটকে সরিয়ে তার স্থানে বসে এবং রক্তে থাকা কোলেস্টেরলের মাএা কমিয়ে ফেলে।এক গবেষণায় দেখা গেছে, ডিমের কুসুমে রয়েছে ১৩টি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। যে সকল মহিলা প্রতিদিন ২টি করে ডিম খান,তাদের শরীরে রুটি খাওয়া মানুষের তুলনায় কম ফ্যাট পাওয়া গেছে।

মুরগির ডিমের উপকারিতা

মুরগির ডিম খাওয়ার একটি বড় সুফল হচ্ছে ওজন কমানো যায়। দীর্ঘ সময় আপনার পেট ভরিয়ে রাখবে। ফলে অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণে প্রবণতা হ্রাস পায়। ডেইলি মেইলে প্রকাশিত এক রিপোর্টে বলা হয়েছ, মুরগীর ডিম ওজন কমাতে বিশেষ ভাবে সহায়ক হিসেবে কাজ করে।এছাড়াও নখ ও চুলের যত্নে ডিম খাওয়ার কোন জুড়ি নেই। নখ ভেঙে যাওয়া এবং চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে ডিম অত্যাবশকীয় খাদ্য। ডিমে থাকা সালফার অনেকটা যাদুর মতো কাজ করে থাকে।

সুতরাং বলা যায়, সুষম খাদ্যের আধার ডিম নিত্য দিনের প্রয়োজনীয় পুষ্টি পাওয়ার পাশাপাশি মিলবে অনেক উপকারিতা।

হাসের ডিম

অনেকে আঁশটে গন্ধের কারণে হাঁসের ডিম মুখে তুলতে চান না। কারও আবার মুরগির ডিমে অরুচি। তবে, জনপ্রিয়তার কথা বললে কেউ কারও থেকে কম যায় না। কিন্তু স্বাস্থ্য সচেতনরা বুঝে উঠতে পারেন না কোন ডিম খাবেন। হাঁসের ডিম খেলে বেশি পুষ্টি, নাকি মুরগির ডিম খেলে ঝরবে মেদ। জেনে নিন কোন ডিম বেশি পুষ্টিকর।
মুরগির ডিমের তুলনায় হাঁসের ডিম আকারে বড় হয়। এ ছাড়াও হাঁসের ডিমের খোলা মুরগির ডিমের তুলনায় বেশি শক্ত হয়। আকারে বড় হওয়ার কারণে হাঁসের ডিমের কুসুমও বড় হয়। যদিও, টাটকা ডিম খাওয়াই স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।

হাঁস, মুরগি উভয়ের ডিমেই থিয়ামিন, নিয়াসিন, রাইবোফ্লোভিন, প্যান্টোথেনিক অ্যাসিড, ফোলেট, ভিটামিন বি৬, ভিটামিন ডি, ভিটামিন ই, ভিটামিন এ, ভিটামিন বি১২ ও রেটিনল থাকলেও হাঁসের ডিমে সব ভিটামিনের পরিমাণই বেশি থাকে।

১০০ গ্রাম হাঁসের ডিম থেকে ১৮৫ কিলো ক্যালরি এনার্জি পাওয়া যায়। যেখানে ১০০ গ্রাম মুরগির ডিম থেকে পাওয়া যায় ১৪৯ কিলো ক্যালরি এনার্জি। কার্বহাইড্রেট ও মিনারেলের পরিমাণ সমান হলেও হাঁসের ডিমে প্রোটিনের পরিমাণ সামান্য বেশি থাকে। উভয়ের ডিমেই সেলেনিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, দস্তা, তামা, পটাশিয়াম, সোডিয়াম, ফসফরাস, ক্যালসিয়াম, আয়রন থাকে। তবে হাঁসের ডিমে সব কিছুরই পরিমাণ কিছুটা বেশি থাকে।

হাঁসের ডিমের পুষ্টিগুনঃ

প্রতি ১০০ গ্রাম হাঁসের ডিমে রয়েছে ১৮১ কিলোক্যালরি খাদ্যশক্তি। আর মুরগির ডিমে আছে ১৭৩ কিলোক্যালরি। প্রতি ১০০ গ্রাম হাঁসের ডিমে প্রোটিনের পরিমাণ ১৩.৫ গ্রাম এবং ১০০ গ্রাম মুরগির ডিমে প্রোটিনের পরিমাণ ১৩.৩ গ্রাম ৷ হাঁসের ডিমের ফ্যাট থাকে ১৩.৭ গ্রাম, মুরগির ডিমে থাকে ১৩.৩ গ্রাম। আবার মুরগির ডিমে ক্যালসিয়াম রয়েছে ৬০ মিলিগ্রাম, লোহা রয়েছে ২.১ মিলিগ্রাম, ভিটামিন এ রয়েছে ২৯৯ মাইক্রোগ্রাম। অন্যদিকে, ১০০ গ্রাম হাঁসের ডিমে ক্যালসিয়াম ৭০ মিলিগ্রাম, লোহা ৩ মিলিগ্রাম, ভিটামিন এ ২৬৯ মাইক্রোগ্রাম থাকে। যে কারণে হাঁসের ডিম ৬ সপ্তাহ পর্যন্ত খাওয়া যেতে পারে। তাই যদি বেশি কুসুম খেতে চান বা আপনার শরীরে বেশি প্রোটিনের প্রয়োজন হয় তাহলে হাঁসের ডিম খান।

ফ্যাটঃ
১০০ গ্রাম হাঁসের ডিমে স্যাচুরেটেড ফ্যাটের পরিমাণ ৩.৬৮ গ্রাম, ১০০ গ্রাম চিকেনে স্যাচুরেটেড ফ্যাটের পরিমাণ ৩.১ গ্রাম। হাঁসের ডিমে মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাটের পরিমাণ মুরগির ডিমের থেকে ৫০ শতাংশ বেশি। অ্যামাইনো অ্যাসিডের পরিমাণও হাঁসের ডিমে বেশি হলেও থ্রিওনিন, আইসোলিউসিন, ট্রিপটোফ্যান, লিউসিন, মিথিওনিন, লাইসিন, কিস্টিন, টাইরোসিন, ফেনিলালানিন, ভ্যালাইন, সেরিন, গ্লাইসিন, প্রোলিন, অ্যাসপারটিক অ্যাসিড, হিস্টিডিন, অ্যালানিন ও আর্জিনিন সব ধরনের অ্যামাইনো অ্যাসিডই মজুত মুরগির ডিমেও।

কোলেস্টেরলঃ
তাই হাঁসের ডিম বেশি পুষ্টিকর হলেও এই ডিমে কোলেস্টেরলের পরিমাণও বেশি থাকে। ১০০ গ্রাম হাঁসের ডিমে যেখানে কোলেস্টেরলের পরিমাণ ৮৮৪ মিলিগ্রাম, ১০০ গ্রাম মুরগির ডিমে কোলেস্টেরলের পরিমাণ ৪২৫ মিলিগ্রাম। তাই হার্টের সমস্যা থাকলে অবশ্যই দূরে থাকুন হাঁসের ডিম থেকে। যারা হাই প্রোটিন ডায়েট মেনে চলতে চান তারা কুসুম ছাড়া হাঁসের ডিমের সাদা অংশ খেতে পারেন। সব মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে, সামান্য পরিমাণে হলেও মুরগির থেকে হাঁসের ডিমেই পুষ্টিগুণ বেশি রয়েছে ৷

ভাজা ডিম এর উপকারীতা

ভাজা ডিম এক প্রকার রান্নার ধরন যেখানে ডিম তাওয়া বা ফ্রাই প্যানে ভেজে পরিবেশন করা হয়। ইংরেজি ভাষার দেশগুলোতে ঐতিহ্যগতভাবে এই খাবার সকালের নাস্তা হিসেবে খাওয়া হয়। ভারতীয় উপমহাদেশে একে সাধারণত ‘পোচ’ বলা হয়।

সুস্বাদু ও স্বাস্থ্যকর খাবার হিসেবে ডিমের জুড়ি মেলা ভার। যেভাবেই রান্না করা হোক না কেন, এটি খেতে চমৎকারই লাগবে। বিশ্বের প্রতিটি অঞ্চলে ডিম রান্নার নানা পদ্ধতি রয়েছে। তবে আপনি কি জানেন যে, ডিম রান্নার ধরনের উপর এর ক্যালোরি বৃদ্ধি কিংবা হ্রাস নির্ভর করে। রান্নার ধরনই আপনার প্রিয় সুস্বাদু খাবারকে স্বাস্থ্যকর বা অস্বাস্থ্যকর করতে পারে।

প্রতিদিন ডিম খেলে তা আপনার জন্য বিরক্তিকর মনে হতে পারে। তবে আপনি কীভাবে এটি তৈরি করেন, তার উপর নির্ভর করে এটি আপনার জন্য স্বাস্থ্যকর হবে না-কি অস্বাস্থ্যকর।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি কোনো অন্তর্নিহিত স্বাস্থ্যের সমস্যা না থাকে তবে যে কেউ প্রতিদিন ডিম খেতে পারে। বিশেষত, ডিম শিশুদের বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রে সাহায্য করতে পারে। এটি নানারকম পুষ্টি জোগানো ছাড়াও পেশীর টিস্যুগুলোকে শক্তিশালী করতে সহায়তা করতে পারে। তবে, একটি ভাজা ডিমের মধ্যে ৯০ ক্যালোরি, ৭.০৪ গ্রাম ফ্যাট এবং ৬.২৭ গ্রাম প্রোটিন থাকতে পারে এবং এতে কার্বস কম থাকে। ক্যালোরির পরমিাণ তেল বা অন্যান্য উপাদান ব্যবহারের কারণে পরিবর্তিত হতে পারে। আদর্শ ওজন বজায় রাখতে একজন নারী সর্বোচ্চ ১৫০০ ক্যালোরি গ্রহণ করতে পারে এবং পুরুষদের জন্য এটি দিনে ২০০০ ক্যালোরি পর্যন্ত হতে পারে।

আপনার যদি ক্রনিক কোনো রোগ যেমন হৃদযন্ত্রের সমস্যা, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ইত্যাদি থাকে তবে ভাজা ডিম আপনার জন্য উপকারী নয়। এ ধরনের কোনো সমস্যা না থাকলে ভাজা ডিম উপকারী নাস্তা হতে পারে। কারণ তেল যোগ করার ফলে ক্যালোরির সংখ্যা বাড়বে।

সুতরাং, ডিম খাওয়ার সর্বোত্তম উপায় হলো সেদ্ধ করে খাওয়া। কুসুম বাদ দিয়ে খেলে ভালো। কারণ ডিমের কুসুমে চর্বি রয়েছে এবং এটি খারাপ কোলেস্টেরলের স্তর বৃদ্ধি করতে পারে।

কাচা ডিম খাওয়া কি আসলেই স্বাস্থ্যের পক্ষে ভালো ?

শক্তির অন্যতম উত্‍স ডিমের মধ্যে রয়েছে প্রচুর পুষ্টি। ক্যালসিয়াম, প্রোটিন, আয়রন, ভিটামিন ও মিনারেলসে ভরপুর ডিম সুস্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। বিশেষ করে ডিমের মধ্যে থাকা ভিটামিন-এ’ ও ভিটামিন বি১১’ শরীরের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় উপাদান। নিয়মিত ডিম খেলে মস্তিষ্কের কার্যক্রম বাড়াতে পেশী শক্তি বাড়িয়ে শরীরকে কর্মক্ষম রাখতে সাহায্য করে। অনেক ক্ষেত্রে শোনা যায় কেউ কেউ শক্তি বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাঁচা ডিম খাওয়া শুরু করে দেন। তাঁরা মনে করেন রান্না করলে হয়তো ডিমের পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়ে যায়।

এই যুক্তি কতটা সত্য বা বা মিথ্যে তা নিয়ে পুষ্টিবিদরা একটি বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।
পুষ্টিবিদদের মতে ‘কাঁচা ডিম খেলে বেশি শক্তি পাওয়া যায় বা শক্তি বাড়ে, কথাটি একেবারে ভুল। এর কোনো বৈজ্ঞানিক ব্যখ্যা নেই। বরং এ থেকে নানা রোগব্যাধি হতে পারে।’ কাঁচা ডিম সহজে হজম হয় না। কাঁচা ডিম খেলে শরীরে বায়োটিনের অভাব হয় ফলে ওজন কমা, জিহ্বার রুক্ষতা, ত্বকের প্রদাহের মতো সমস্যা দেখা দেয়।
কাঁচা ডিমে সালমোনেল নামক একপ্রকার ব্যাকটেরিয়া পাওয়া যায় যা পেটে গেলে নানা রকমের অসুখ যেমন- বমি, টাইফয়েড হতে পারে। পুষ্টিবিদরা সমস্ত দিক বিচার করে বক্তব্য রেখেছেন যে কাঁচা ডিম স্বাস্থ্যের জন্য যথেষ্ট ক্ষতি সাধন করে থাকে।

গবেষকরা এটি বলে থাকেন যে কাঁচা ডিমের চেয়ে সিদ্ধ ডিমে বেশি পুষ্টি উপাদান থাকে কাঁচা ডিমের থেকে সিদ্ধ ডিম কিংবা ভাজা ডিম দ্রুত হজম হয় বলে এটি শরীরের জন্য উপকারী। একটি কাঁচা ডিম থেকে আমাদের শরীর মাত্র ৩ গ্রাম হজমযোগ্য প্রোটিন পেয়ে থাকে অপরদিকে একটি সিদ্ধ ডিম থেকে আমাদের শহরের ৬ গ্রাম হজমযোগ্য প্রোটিন থাকে।

উদাহরণস্বরূপ একটি কাঁচা ডিম থেকে আপনি ভিটামিন বি ৬ পাবেন. ০৮৫ মাইক্রোগ্রাম, চেলিন পাবেন ১৪৬.৯ মিলিগ্রাম। অপরদিকে একটি রান্না করা ডিমে ভিটামিন থাকে 0.72
মাইক্রো গ্রাম প্রোটিন থাকে ১১৭ মিলিগ্রাম ।

প্রোটিনের উসের ক্ষেত্রে রান্না করা ডিম উপকারী। রান্না করা ডিম থেকে আমাদের শরীর 91 শতাংশ প্রোটিন শুষে নিতে পারে অপরদিকে কাঁচা ডিম থেকে আমাদের শরীর মাত্র 50 শতাংশ প্রোটিন শুষে নিতে পারে। জার্নাল অফ নিউট্রিশন এর প্রকাশিত এক গবেষণায় এই বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে।
আর তা ছাড়া কাঁচা ডিমে স্যালমোনেলা নামের এমন একটি ব্যাকটেরিয়া বা জীবাণু রয়েছে যা ফুড পয়জনিং বা খাদ্যে বিষক্রিয়া ঘটায়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর অন্তত ১০ লাখ মানুষ খাদ্যের বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হন কাঁচা ডিম খেয়ে।

তবে খাদ্যে বিষক্রিয়ার জন্য দায়ী জীবাণু স্যালমোনেলা শুধু কাঁচা ডিমই নয় বরং পোল্ট্রি, মাংস, কাঁচা দুধ, পনির এবং এমনকি পঁচা ফল-মুল এবং সবজিতেও থাকে।
গবেষকদের নানা তথ্য ও উপাত্ত বিশ্লেষণ করে এটি প্রমাণিত হয় যে আসলে ডিম সেদ্ধ করাটাই শরীরের জন্য বেশি উপকারী। সেদ্ধ করা ফলে জমে থাকা নানান ক্ষতিকর উপাদান যেমন বিনষ্ট হওয়া যায় তেমনি ক্রিমের থাকা উপাদানগুলো শরীরের জন্য প্রস্তুত হওয়ার সুযোগ পায়।

যারা এতদিন মনে করে আসছেন কাঁচা ডিম শরীরের জন্য উপকারী কাঁচা ডিম খাওয়ার উপকারিতা অনেক বেশি তারা আজকে হয়তো বুঝতে পারছেন আসলে কাঁচা ডিম নয় বরং সিদ্ধ ডিমের উপকারিতা সবচেয়ে বেশি।

ডিম খাওয়ার অপকারিতা

ধূমপানের চেয়ে বেশি ক্ষতিকর ডিম। এই লাইন পড়েই হয়তো আপনি হেসে কুটি কুটি হবেন। কিন্তু না। বিষয়টি একেবারেই হাসির নয়। এ বিষয়ে গবেষকরা কী বলেছেন আসুন জেনে নেওয়া যাক।

যারা নিয়মিত ডিম খান, গবেষকদের দেওয়া তথ্য তাদের জন্য একটা খারাপ খবরই বটে। কারণ সম্প্রতি নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা ডিম নিয়ে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য পেশ করেছেন।

ওই গবেষকরা ডিম খাওয়ার ভাল ও খারাপ দিক সম্পর্কে জানিয়েছেন। তারা বলছেন, রোজ ডিম খাওয়া ধূমপানের চেয়েও বেশি ক্ষতিকর।
কারণ ডিমে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি থাকার কারণে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি। এছাড়া ডিম থেকে ক্যালশিয়াম পাওয়া যায়।
কিন্তু এতে থাকা উচ্চ মাত্রায় প্রোটিন থেকেই আর্থারাইটিসের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

ফলে ধূমপানের কারণে মানুষ স্বাস্থ্যগত যে ঝুঁকিতে থাকে, প্রতিদিন বা বেশি বেশি ডিম খেলে তার চেয়েও বেশি ঝুঁকি তৈরি হয়।
তাই গবেষকদের মতে, কায়িক পরিশ্রম না করে নিয়মিত ডিম খাওয়া একেবারেই উচিত নয়।

5/5 - (24 Reviews)

Leave a Reply

Your email address will not be published.