তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ম

তাহাজ্জুদ নামাজ পড়তে চান কিন্তু তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ম জানেন না? তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করার মাধ্যমে আমরা আল্লাহ্‌র সন্নিকটে পৌঁছাতে পারি। আল্লাহ্‌র কাছে আমাদের দোয়া কবুল করিয়ে নেয়ার একমাত্র এবং উপকারী পন্থা হচ্ছে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করা। তাহাজ্জুদ নামাজ একাকী, গভীর রাতে আদায় করতে হয়। গভীর ঘুম থেকে উঠে আল্লাহ্‌ কাছে প্রার্থনা করায় আল্লাহ্‌ তায়ালা তার বান্দার উপর অনেক খুশি হন। এজন্য আমরা যদি আল্লাহ্‌র দরবারে আমাদের দোয়া কবুল করিয়ে নিতে চাই, তবে আমাদের তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ার নিয়ম জানতে হবে।

তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ম অনেকেই জানে না। এই নামাজ আদায় করার অনেক সুফল রয়েছে। কিন্তু, সঠিক নিয়ম না জানার কারণে এবং অনেকের কাছেই এই নামাজ আদায় করার নিয়ম না জানার কারণে, এই নামাজ আদায় করা হয় না। আপনি যদি তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করতে চান এবং তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ম না জেনে থাকেন, তবে এই পোস্টটি সম্পূর্ণ পড়ুন। আজকের এই পোস্টে আপনাদের সাথে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করার নিয়ম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো। এতে করে, আপনি সঠিকভাবে তাহাজ্জুদ এর সালাত আদায় করতে পারবেন। তো চলুন, শুরু করা যাক।

তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ত

প্রতিটি নামাজ আদায় করার পূর্বে আমাদের নিয়ত করে নিতে হয়। কোনো কাজ করার সকল্প করাই হচ্ছে নিয়ত করা। আপনি যদি এই আর্টিকেলটি পুরো পড়ার ইচ্ছে পোষণ করেন, তবে সেটিই হচ্ছে নিয়ত করা। প্রতি ওয়াক্তে নামাজ আদায় করার সময় আমাদের নিয়ত করতে হয়। আরবি কিংবা বাংলায় আপনার ইচ্ছে মতো নিয়ত করতে পারবেন। তাহাজ্জুদ নামাজ এবং অন্যান্য নামাজের নিয়তের মাঝে একটি পার্থক্য রয়েছে। আপনি যদি তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করতে চান কিন্তু তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ত না জেনে থাকেন, তবে নিচে থেকে তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ত দেখে নিতে পারেন।

আরবি : নাওয়াইতুয়ান উছওয়াল্লিয়া লিল্লাহি তা’আলা , রাকাতাই ছালাতুল তাহাজ্জুদি সুন্নাতু রাসুলিল্লাহি তায়ালা মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কাবাতিশ শারীফাতি আল্লাহু আকবার।

See also  মানব মস্তিষ্ক কত জিবি

বাংলা অর্থ : আমি আল্লাহর ওয়াস্তে কিবলামুখী হয়ে তাহাজ্জুদের দুই রাকাত সুন্নত নামাজের নিয়ত করিলাম । অথবা, ‘ মহান আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টির জন্য দুই রাকাত তাহাজ্জুদ নামাজ আদায়ের নিয়ত করছি।

তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করার জন্য প্রথমেই নিয়ত করে নিবেন। এরপর, তাকবির দিয়ে সানা এবং সূরা ফাতিহা পড়ে অন্য সূরা মিলানোর মাধ্যমে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করতে পারবেন। তবে, তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করার সময় সূরা ফাতিহার সাথে অন্য বড় সূরা মিলানো উত্তম। মহানবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তারাবীর নামাজ আদায় করার সময় অনেক সময় নিতেন। তিনি সূরা বাকারা সম্পূর্ণ পড়তেন তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করার সময়। এতে করে মহানবী (স.) এর পা ফুলে যেতো। তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করার সময় আমাদেরও ধৈর্য ধারণা করে আদায় করতে হবে। তো চলুন, তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ম দেখে নেয়া যাক।

তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ম

তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করার সঠিক নিয়ম রয়েছে। এই নিয়ম মেনে যদি আমরা প্রতিনিয়ত তাহাজ্জুদ এর সালাত আদায় করি, তবে আল্লাহ্‌র দরবারে আমাদের নামাজ কবুল হবে ইনশা আল্লাহ্‌। অনেকেই তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করে থাকে আল্লাহ্‌র সন্নিকট অর্জন করার জন্য, কিন্তু আমরা যদি সঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে না পারি, তবে আল্লাহ্‌র নৈকট্য অর্জন করতে পারবো না। তাহাজ্জুদের অপর নাম হল সালাতুল লাইল। তাহাজ্জুদ অর্থ ঘুম থেকে জাগা। মহান আল্লাহ্‌কে খুশি করার জন্য গভীর রাতে ঘুম থেকে উঠে যে নামাজ আদায় করা হয়, সেটিই হচ্ছে তাহাজ্জুদ এর সালাত।

নিচে তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ম উল্লেখ করে দিলাম। এখান থেকে আপনি তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করার নিয়ম জেনে নিতে পারবেন এবং এই নিয়ম মেনে সঠিকভাবে তাহাজ্জুদ এর সালাত আদায় করতে পারবেন।

  • তাকবীরে তাহরীমা ‘আল্লাহু আকবার’ বলে নামাজের নিয়ত করে হাত বাঁধুন।
  • ছানা পড়ুন ও তারপর সূরা ফাতেহা পড়ুন।
  • এরপর সূরা বা কেরাত পড়ুন। সম্ভাব্য হলে বড় কোন সূরা তেলাওয়াত করুন।
  • অন্যান্য নামাজের মত রুকু ও সিজদা আদায় করুন। আর রুকু সিজদা দীর্ঘ হলে উত্তম।
  • দ্বিতীয় রাকাত একই ভাবে আদায় করুন।
  • বৈঠকে বসে তাশাহহুদ, দরুদ শরীফ ও দোয়া মাছুরা পড়ুন।
  • সালাম ফিরানোর মাধ্যমে নামাজ সম্পন্ন করুন।
  • তাহাজ্জুদ নামাজ একইভাবে দুই রাকাত করে আদায় করুন। সর্বোচ্চ এই নামাজ ২ থেকে ১২ রাকাত আদায় করা যায়। তবে ৮ রাকাত পড়াই উত্তম।
See also  মেয়েদের ইসলামিক নাম | মেয়ে শিশুর ইসলামিক নামের তালিকা | Girls Islamic Names

উপরোক্ত নিয়ম অনুসরণ করে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করতে পারবেন। অন্যান্য নামাজ আদায় করার মতো করেই তাহাজ্জুদ এর সালাত আদায় করতে হয়। দুই রাকাত করে যত ইচ্ছে নামাজ আদায় করতে পারবেন। তাহাজ্জুদ নামাজের ক্ষেত্রে নিয়ত এবং দোয়ার কিছু পার্থক্য রয়েছে। প্রতিটি নামাজের মাঝেই নিয়তের পার্থক্য থাকে, কিন্তু দোয়ার পার্থক্য থাকে না। তাহলে আমি দোয়ার পার্থক্য থাকার কথা বললাম কেন? আপনি যদি কিছু বিশেষ দোয়া পাঠ করেন, তবে এই দোয়াগুলোর জন্য আলাদা সাওয়াব পাবেন।

তাহাজ্জুদ নামাজের দোয়া

আমাদের মহানবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করার সময় কিছু দোয়া পড়তেন। আমরা চাইলে তাহাজ্জুদ এর সালাত আদায় করার সময় এসব দোয়া আমল করতে পারি। নিচে তাহাজ্জুদ নামাজের দোয়াগুলো উল্লেখ করে দিলাম। এছাড়াও, গভীর রাতে মহানবী (সাঃ) ঘুম থেকে উঠে তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ার উদ্দেশ্যে আকাশের দিকে তাকিয়ে কুরআনের এ আয়াতসহ সুরা আল-ইমরানের শেষ পর্যন্ত পড়তেন। – (বুখারি, মুসলিম ও মিশকাত)

আয়াতটি হলো:
رَبَّنَا مَا خَلَقْتَ هَذا بَاطِلاً سُبْحَانَكَ فَقِنَا عَذَابَ النَّارِ – رَبَّنَا إِنَّكَ
مَن تُدْخِلِ النَّارَ فَقَدْ أَخْزَيْتَهُ وَمَا لِلظَّالِمِينَ مِنْ أَنصَارٍ – رَّبَّنَا
إِنَّنَا سَمِعْنَا مُنَادِيًا يُنَادِي لِلإِيمَانِ أَنْ آمِنُواْ بِرَبِّكُمْ فَآمَنَّا رَبَّنَا فَاغْفِرْ لَنَا ذُنُوبَنَا وَكَفِّرْ عَنَّا سَيِّئَاتِنَا وَتَوَفَّنَا مَعَ الأبْرَارِ

উচ্চারণ: রাব্বানা মা খালাক্বতা হাজা বাত্বিলান, সুবহানাকা ফাক্বিনা ‘আজাবান্নার। রাব্বানা ইন্নাকা মাং তুদখিলিন্নারা ফাক্বাদ্ আখঝাইতাহু, ওয়া মা লিজজ্বালিমিনা মিন্ আংছার। রাব্বানা ইন্নানা সামি’না মুনাদিআই ইউনাদি লিল ইমানি আন আমিনু বিরাব্বিকুম ফাআমান্না; রাব্বানা ফাগফিরলানা জুনুবানা ওয়া কাফ্‌ফির আন্না সাইয়্যেআতিনা ওয়া তাওয়াফ্ফানা মাআ’ল আবরার।’

অর্থ: ‘হে আমাদের প্রতিপালক! এসব তুমি অনর্থক সৃষ্টি করনি। পবিত্রতা তোমারই জন্য। আমাদেরকে তুমি জাহান্নামের শাস্তি থেকে বাঁচাও। হে প্রতিপালক! নিশ্চয়ই তুমি যাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ কর তাকে অপমানিত কর। আর যালিমদের জন্য কোন সাহায্যকারী নেই। হে আমাদের প্রভু! আমরা ঈমান আনার জন্য একজন আহবানকারীকে আহবান করতে শুনে ঈমান এনেছি। হে আমাদের পালনকর্তা! তুমি আমাদের সকল গোনাহ মাফ করে দাও। আমাদের সকল দোষ-ত্রুটি দূর করে দাও। আর নেক লোকদের সঙ্গে আমাদের মৃত্যু দাও।’

See also  গ্রোথ হরমোনের অভাবজনিত লক্ষণ

তাহাজ্জুদ নিয়ে রাসূলুল্লাহ (স:) এর হাদিস

তাহাজ্জুদ নামাজ এর ফজিলত সম্পর্কে মহানবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, মহান আল্লাহ তায়াল প্রতি রাতে দুনিয়ার আসমানে (যা আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়) নেমে আসেন যখন রাত্রের এক তৃতীয়াংশ বাকী থাকে। অতঃপর তিনি বলেন, তোমাদের কে আমাকে ডাকবে! আমি তার ডাকে সাড়া দেব। কে আমার কাছে কিছু চাইবে আমি তাকে তা দেব, কে আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে আমি তাকে ক্ষমা করে দেব। (মুসলিম, মেশকাত ১০৯ পৃঃ)।

উপসংহার

আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টি অর্জন করা প্রত্যেক মুসলিম এবং মুমিন এর একান্তই কাম্য। আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টি অর্জন করার জন্য আমরা সালাত আদায় করি, রোজা রাখি, যাকাত দেই, কুরবানি করি। এছাড়াও, আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টি অর্জন করার সহজ আরেকটি উপায় হচ্ছে তাহাজ্জুদ এর নামাজ আদায় করা। তাহাজ্জুদ এর নামাজ আদায় করার মাধ্যমে আমরা অনেক সহজেই আল্লাহ্‌র কাছে আমাদের দোয়া কবুলের জন্য প্রার্থনা করতে পারি। এই পোস্টে ইতোমধ্যে আমি তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ম, তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ত, তাহাজ্জুর নামাজের দোয়া উল্লেখ করে দিয়েছি। আশা করছি তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ম পোস্টটি আপনার জন্য অনেক সহায়ক হবে।

আরো পড়ুন: অসুস্থ ব্যক্তির জন্য দোয়া

Rate this post
Subna Islam
Subna Islam
Articles: 80

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *